৯ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ের উত্তর: এল ক্লাসিকোর ফল ঠিক করে দিতে পারে যে পাঁচ

প্রকাশ:

ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় দ্বৈরথ এল ক্লাসিকোর মঞ্চ আবারও প্রস্তুত। আগামীকাল রাতে ক্যাম্প ন্যুতে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ। লা লিগায় এখন পর্যন্ত ৯ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করে বার্সেলোনা তালিকার শীর্ষে রয়েছে। অন্যদিকে, সমান ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। বর্তমান এই সমীকরণে মাদ্রিদের দলটি পরাজিত হলে শিরোপার লড়াইয়ে পয়েন্ট ব্যবধান বেড়ে ৯ পয়েন্টে দাঁড়াবে, যা হান্সি ফ্লিকের শিষ্যদের বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে দেবে। কত স্মৃতি জমা করে রাখে মনের অ্যালবামে। তবে স্মৃতির আগুন একেবারে নিভেও যায়নি। তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবে ডালপালা মেলছে। মনে আছে ২০১১ সালের স্প্যানিশ সুপার কাপ। নিজের উঠোনে বার্সেলোনা যেন অজেয় এক দল।

পরিসংখ্যানের বিচারে বার্সেলোনার ভরসার নাম রাফিনিয়া। ব্রাজিলিয়ান এই তারকা শেষ যে ছয়টি এল ক্লাসিকোতে অংশ নিয়েছেন, তার সব কটিতেই জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। এই ছয় ম্যাচে তিনি নিজে করেছেন ৭ গোল এবং ৩টি অ্যাসিস্ট। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চলতি মৌসুমে ১০ ম্যাচে ১৪ গোল করেছেন তিনি। লিগে ৮ ম্যাচে ১২ গোল নিয়ে তিনি এখন সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় সবার উপরে এবং গড়ে প্রতি ৭৫ মিনিটে একটি গোল করছেন। রাফিনিয়া নিজে জানিয়েছেন, চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির কাছে হারলেও তার দলের আত্মবিশ্বাসে কোনো ভাটা পড়েনি। নিজে করেছেন ৭ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট।

কৌশলী লড়াইয়ে জোসে মরিনিও ও হান্সি ফ্লিকের ব্যক্তিগত দ্বৈরথ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। মরিনিও রিয়ালের ডাগআউটে ফিরে আসার পর এটি তার প্রথম এল ক্লাসিকো। রিয়ালের কোচ হিসেবে তিনি আগে ১৭টি ক্লাসিকো পরিচালনা করে ৫ জয়, ৬ ড্র ও ৬ হার দেখেছেন। ২০১৩ সালে ক্লাব ছাড়ার আগে তিনি টানা পাঁচটি এল ক্লাসিকোতে অপরাজিত ছিলেন। এবার সেই ধারাবাহিকতা ৬ ম্যাচে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তার সামনে। অন্যদিকে বার্সেলোনা কোচ ফ্লিক তার ক্যারিয়ারে সাত ক্লাসিকোর ছয়টিতেই জয়ী হয়েছেন। সঙ্গে পেপ গার্দিওলা আর জোসে মরিনিওর মস্তিষ্কের যুদ্ধ। মরিনিওর সামনে বিপর্যয় এড়ানোর চ্যালেঞ্জ। প্রধান কোচ হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। এই মহারণের আগে পাঁচটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে ফুটবল–বিশ্বে। পরিসংখ্যান কখনো কখনো ফুটবলের ভবিষ্যৎ বলে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে রিয়ালের দায়িত্ব নিয়ে সেই বার্সেলোনারই সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে উঠেছিলেন। বার্সার সহকারী কোচ তিতো ভিয়ানোভার চোখে আঙুল ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন মরিনিও। প্রথম মেয়াদে ১৭ এল ক্লাসিকোয় তাঁর ৫ জয়, ৬ ড্র, ৬ হার।

ঘরের মাঠে বার্সেলোনার পারফরম্যান্স রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য। লা লিগায় টানা ২৩টি হোম ম্যাচে জয়ী দলটি গত মৌসুমে ঘরের মাঠে খেলা ১৯টি ম্যাচের সব কটিতেই জয় পেয়েছে। চলতি মৌসুমে ঘরের মাঠে খেলা ৫ ম্যাচে তারা প্রতিপক্ষের জালে ২২ বার বল জড়িয়েছে, অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি গড়ে ৪টিরও বেশি গোল। বিপরীতে, রিয়াল মাদ্রিদের অ্যাওয়ে ফর্ম কিছুটা উদ্বেগের। লিগে তাদের শেষ চারটি অ্যাওয়ে ম্যাচের মধ্যে দুটি হার এবং দুটি জয়। তবে রিয়াল মাদ্রিদ ক্যাম্প ন্যুতে খুব একটা পিছিয়ে নেই; লিগের সর্বশেষ ছয়টি ম্যাচের তিনটিতেই তারা জয় তুলে নিয়েছে। একসময় লিওনেল মেসি আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো মাঠে নামতেন। ঘরের মাঠে টানা ২৩ লিগ ম্যাচে জয়ের ধারায় তারা। গত মৌসুমে ১৯ ম্যাচের সব কটিতে জিতেছে।

বার্সেলোনার আক্রমণভাগ বর্তমান ফুটবলে সবচেয়ে ভয়ংকর গোলের কারখানা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তারা ১২ ম্যাচে ৫০ গোল করেছে। হান্সি ফ্লিকের উচ্চ-চাপ প্রয়োগের কৌশলে প্রতিপক্ষ দমবন্ধ অনুভব করলেও, তাদের রক্ষণভাগ মাঝে মাঝে বড় সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। লিগে প্রতি ম্যাচে বার্সা গড়ে ৬.৮টি শট হজম করে, কিন্তু তাদের প্রতিপক্ষদের প্রত্যাশিত গোল বা এক্সজি (xG) মান লিগে সর্বোচ্চ। অর্থাৎ খুব কম শট নিয়েও প্রতিপক্ষ বড় সুযোগ তৈরি করছে। জুলস কুন্দের অনুপস্থিতি এই ফাটলকে আরও বড় করে তুলতে পারে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র না থাকলেও তাদের বিকল্প অস্ত্র কম নয়। নিষেধাজ্ঞার কারণে ভিনিসিয়ুস খেলতে পারছেন না, তবে তাঁর জায়গায় ইয়ান দিওমান্দে সেভিয়া ও লাইপজিগের বিপক্ষে গোল ও অ্যাসিস্ট করে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করেছেন। এছাড়া কিলিয়ান এমবাপ্পে বার্সেলোনার বিপক্ষে ছয় ম্যাচে ছয় গোল করেছেন এবং জুড বেলিংহাম ছয় এল ক্লাসিকোয় চার গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি তিনটি ম্যাচ জেতানো গোল করেছেন। নতুন যুগে লামিনে ইয়ামাল আর কিলিয়ান এমবাপ্পে। জয় এসেছে এস্পানিওল ও এলচের বিপক্ষে। আগের ১৬ ম্যাচে তাদের জয়ও ছিল তিনটি।

ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, এল ক্লাসিকোর জয়-পরাজয়ের লড়াই বর্তমানে সমানে সমান। দুই কোচের লড়াই তাই শুধু কৌশলের নয়, ব্যক্তিত্বেরও।

এখন পর্যন্ত দুই দলই ১০৬টি করে ম্যাচে জয় পেয়েছে এবং ড্র হয়েছে ৫২টি ম্যাচ।

গোল সংখ্যার দিক থেকেও রিয়াল (৪৪৪ গোল) ও বার্সেলোনার (৪৪১ গোল) ব্যবধান খুব সামান্য। এছাড়া ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে মিগুয়েল মুনোজের রিয়ালের গড়া টানা ৯টি লিগ জয়ের রেকর্ড ছুঁয়েছে বর্তমান বার্সেলোনা। আরেকটি জয় তাদের এই রেকর্ড এককভাবে দখলের সুযোগ করে দেবে। চুয়ামেনির ভাষ্যমতে, ভ্যালভের্দের সঙ্গে মারামারি না হলেও ড্রেসিংরুমে একটি ‘অপ্রীতিকর’ ঘটনা ঘটেছিল, যা দলের বাইরের আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে মেসি বা রোনালদোর যুগ পার হয়ে গেলেও এল ক্লাসিকোর আবেদন আজও অম্লান। মেসির বাঁ পায়ের জাদু, রোনালদোর দুরন্ত গতি। রিয়ালের কোচদের মধ্যে এর আগে এমন কীর্তি আছে মিগুয়েল মুনোজ ও ভিসেন্তে দেল বস্কের।

শেয়ার করুন