৮ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে ফর্টিসের ঐতিহাসিক জয়

প্রকাশ:

টুর্নামেন্ট থেকে আগেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় কুয়েতের মাঠে শেষ ম্যাচটি ফর্টিস এফসির জন্য ছিল কেবলই আনুষ্ঠানিকতার। তবে বাংলাদেশের এই ক্লাবটি হতাশায় নিমজ্জিত না হয়ে শেষ ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে। শুক্রবার কুয়েতের হাওয়ালির মোহামেদ আল হামাদ স্টেডিয়ামে ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে ফর্টিস এফসি তাজিকিস্তানের শক্তিশালী ক্লাব এফসি রেগার-তাদাজকে ৩-১ গোলে পরাজিত করেছে। এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে এটিই বাংলাদেশের কোনো ক্লাবের প্রথম জয়। কিন্তু সেই ম্যাচকেই স্মরণীয় করে রাখল বাংলাদেশের ক্লাবটি। সংখ্যায় এগিয়ে থেকেও প্রথমার্ধে সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি ফর্টিস। গোলটি যেন নতুন করে আত্মবিশ্বাস জোগায় বাংলাদেশের দলটিকে। তবু হতাশার সেই অভিযান শেষ হলো বড় এক প্রাপ্তিতে।

ম্যাচের শুরুর ১২ মিনিটে রেগার-তাদাজের খেলোয়াড় শেরজোদ মাখামাদিয়েভের গোলে এগিয়ে যায় প্রতিপক্ষ। তবে ১৭ মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়, যখন ফর্টিসের জাপানি মিডফিল্ডার নরিকি আকাদাকে বিপজ্জনক ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন তাজিক ক্লাবের ডিফেন্ডার তকাম সেভেরিন। ফলে বাকি সময় ১০ জন খেলোয়াড় নিয়ে লড়াই করতে হয় রেগার-তাদাজকে। তা সত্ত্বেও ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যেতে হয় ফর্টিসকে। তবে পাঁচ মিনিট পরই ম্যাচের চিত্র বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত মেলে।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে পুরোপুরি বদলে যায় ফর্টিসের খেলার ধরণ। গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড পা ওমর বাবুর বুদ্ধিমত্তাপূর্ণ পাস এবং বদলি খেলোয়াড়দের সঠিক ব্যবহারের ফলে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে ফর্টিস। ৬৭ মিনিটে পা ওমর বাবুর নিখুঁত পাস থেকে রাফায়েল টুডু দুর্দান্ত ব্যাকহিলে গোল করে দলকে ১-১ সমতায় ফেরান। এরপর ৭১ মিনিটে নেপালি ডিফেন্ডার অনন্ত তামাংয়ের হেডের পর শিয়ান কাওয়াসাকি লক্ষ্যভেদ করলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফর্টিস। একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ বাড়িয়ে তিন গোল আদায় করে নেয় ফর্টিস। কর্নার থেকে আসা বলে নেপালি ডিফেন্ডার অনন্ত তামাংয়ের হেডের পর পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে জোরালো শটে জাল খুঁজে নেন শিয়ান কাওয়াসাকি।

ম্যাচের ৮৮ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা জাপানি মিডফিল্ডার শুকি ইতোফুসা পা ওমর বাবুর বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকে চমৎকার ফিনিশিংয়ে ৩-১ ব্যবধান নিশ্চিত করেন। এর আগে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে কুয়েতের আল কাদসিয়ার কাছে ৩-০ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের এফসি গোয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল ফর্টিস। যদিও এই জয়ের পরও পয়েন্ট টেবিলে অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে এই জয় এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকল। শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখে দলটি।

শেয়ার করুন