৫ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশ:

বাংলাদেশের সাথে জাপানের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া এই সরকারি সফরের তথ্য মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে এই সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং ঢাকা ও টোকিও থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠক শেষে জাপানি প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন। পররাষ্ট্র সচিবের ভাষ্যমতে, এই সফরটি বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রসার ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য একটি সময়োপযোগী সুযোগ।

দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও বিস্তৃত করতে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকার আধুনিকায়নের মতো বিষয়ে সমঝোতা স্মারক ও চুক্তির খসড়া নিয়ে আলোচনা চলছে। এ ছাড়া বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোও আলোচনায় স্থান পাবে।

সরকার আশা করছে, সফরকালে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে।

এছাড়া ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ‘বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি’ (ইপিএ) বাস্তবায়নের বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে, যা বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরাম’-এ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। এছাড়াও ‘জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ’ এবং ‘জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন’-এর চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে জাইকা, জেবিআইসি, জেট্রো এবং সাকাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রধানদের সঙ্গেও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তার জাপান সফরের সময় এলএনজি টার্মিনাল, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পারমাণবিক স্থাপনা এবং নাগোয়ায় টয়োটার উৎপাদন প্ল্যান্ট পরিদর্শন করতে পারেন। মাতারবাড়ি প্রকল্প, তৃতীয় টার্মিনাল ও মেট্রোরেলের মতো বড় অবকাঠামোগুলোতে জাপানের দীর্ঘস্থায়ী সহায়তার বিষয়টি উল্লেখ করে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এই সফর চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি নতুন বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ির মতো বৃহৎ অবকাঠামো ও পরিবহন প্রকল্পে সহায়তার মাধ্যমে জাপান দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি-স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয়গুলো নিয়েও দুই নেতা আলোচনা করবেন। উল্লেখ্য, এর আগে গত এপ্রিলে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি অনলাইন বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন, যেখানে এশিয়া অঞ্চলের জ্বালানি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানিয়েছিল।

শেয়ার করুন