৪ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: গোপনীয় নথি জেদ্দা কনস্যুলেটের

প্রকাশ:

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি ‘গোপনীয়’ প্রতিবেদন পাঠিয়েছে জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২ বাংলাদেশির বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি ‘গোপনীয়’ নথি দিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কার্যালয়।

গত ১৮ অক্টোবর ঢাকায় মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ওই চিঠিতে জানানো হয়, গত ১৪ অক্টোবর যাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তারা হলেন নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তার।

পৃথক মামলায় ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে তারা সেখানে বন্দি ছিলেন।

কনস্যুলেটের প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ আগস্ট সাইবার অপরাধ আইনের আওতায় নজরুল ইসলামকে এবং পরদিন ব্যভিচারের অভিযোগে সুইটি আক্তারকে আটক করা হয়।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর পাওয়া বন্দিদের তালিকায় ৯৭ জনের অপরাধের বিবরণ থাকলেও এই দুজনের ক্ষেত্রে ওই কলাম ফাঁকা ছিল। ফলে তালিকায় তাদের কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডের কোনো নির্দিষ্ট সাজা উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

ঘটনা বিশ্লেষণ ও পরিসংখ্যান

  • অভিযোগ ও বিচার: আগে সাইবার অপরাধ বা ব্যভিচারের অভিযোগে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড হওয়ার নজির সৌদিতে নেই।
  • অজ্ঞাত বিচার প্রক্রিয়া: সাজা প্রদান বা তা কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস কিংবা কনস্যুলেটকে আগে বা পরে কোনোভাবেই জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।
  • পশ্চিমাঞ্চলের বন্দি তথ্য: সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে ৩০৬ জন বাংলাদেশি আটক রয়েছেন।
  • অন্যান্য সাজার মেয়াদ: বন্দিদের মধ্যে ১৪৭ জন বিভিন্ন মামলায় এক মাস থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ভোগ করছেন, যার মধ্যে সাইবার অপরাধের ৩টি মামলায় সাজা ছিল ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর।

পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কনস্যুলেট জানিয়েছে, বিচার প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ ও সাজার রায়ের অনুলিপি চেয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি ‘নোট ভার্বাল’ বা কূটনৈতিক পত্র পাঠানো হয়েছে। ওই রায়ের অফিসিয়াল কপি হাতে পাওয়ার পর বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে পরবর্তী প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

শেয়ার করুন