৪ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সব ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ:

ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের প্রত্যেককে নিজেকে বাংলাদেশি হিসেবে গণ্য করতে হবে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শনে এসে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই দেশ আমাদের সকলের। ধর্ম যার যার হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র সবার জন্য সমান। রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব হলো দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাই রাষ্ট্র যেভাবে একজন নাগরিকের সুরক্ষার ব্যবস্থা করবে, ঠিক একইভাবে অন্য নাগরিকেরও নিরাপত্তা জোগাবে। আমরা সবাই এই দেশের সন্তান এবং একমাত্র পরিচয় আমরা বাংলাদেশি। রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও নাগরিকদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়া, ঠিক একইভাবে এই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আমাকেও নিরাপত্তা দেওয়া। আমরা একে অপরের সঙ্গে কাজ করে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাব। এখানে উপস্থিত আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি।

ঐতিহাসিক বিভিন্ন আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের মানুষ যখন স্বাধীনতার সূর্যোদয়ের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তখন কে হিন্দু, কে মুসলমান, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান—সেসব হিসাব করা হয়নি। একইভাবে পরবর্তী সময়ে দেশের গণতন্ত্র যখনই হুমকির মুখে পড়েছে এবং মানুষ ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় রাজপথে নেমেছে, সেখানেও সব ধর্মের মানুষের সমান অংশগ্রহণ ছিল। এই দেশটিতে আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও অধিকার আছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সেই যুদ্ধে যখন এই দেশের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল স্বাধীনতার সূর্যকে ছিনিয়ে আনার জন্য, তখন কিন্তু আমরা কেউ দেখিনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিস্টান। যুদ্ধের মাঠে কিন্তু এটা আমরা দেখিনি, কখনও জিজ্ঞেসও করিনি।

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের দৃশ্যগুলো চোখ বন্ধ করলেই এখনও আমাদের সামনে ভেসে ওঠে। জুলাইয়ের সেই রক্তক্ষয়ী আন্দোলনেও প্রতিটি ধর্মের মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন। দেশ যদি সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটে, তবে তার সুফল সমাজের প্রতিটি মানুষ ভোগ করবে। কোনো সংকট বা দুর্যোগ এলে যেমন ধর্মের বিচার হয় না, তেমনি ভালো সময়ের আনন্দও সবার জন্য সমান।

বক্তব্যের শেষভাগে প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানান, আমরা যেন ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে নিজেদের প্রথমে মানুষ এবং এরপর দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করি। শারদীয় দুর্গাপূজার সার্বজনীন আনন্দের এই শুভ মুহূর্তে তিনি দেশের সকল সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

শেয়ার করুন