১ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি

প্রকাশ:

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘শারদীয় দুর্গোৎসব’ উপলক্ষে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দেওয়া বিশেষ এক বাণীতে তিনি দেশ-বিদেশের সব সনাতন ধর্মাবলম্বীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘‘শারদীয় দুর্গোৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মতো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় পরিচালনা, সংস্কার ও উন্নয়নে সরকার অব্যাহত সহায়তা প্রদান করছে। পাশাপাশি পুরোহিতদের মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কাজ গতিশীল করা এবং ধর্মীয় কল্যাণমূলক অনুদান ও ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসবই নয়, এর সঙ্গে মিশে আছে চিরায়ত বাংলার সমাজ-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য।

দুর্গাপূজাকে বাংলাভাষী হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ উৎসব হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, শরতের নির্মল আবহাওয়ায় দেবী দুর্গার আগমন ভক্তদের মনে নতুন আশা ও কল্যাণের বার্তা নিয়ে আসে। এই উৎসবের মূল বাণী হলো অসুরের বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও মানবতার জয়। আবহমানকাল ধরে আনন্দমুখর পরিবেশে এ দেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়ে আসছে, যা আমাদের চমৎকার সামাজিক সম্প্রীতির নিদর্শন। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে মানুষের ভেতর পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতা আরও সুদৃঢ় হয়। শরতের নির্মল আকাশ, শুভ্র কাশফুল আর উৎসবের আনন্দঘন আবহে প্রতিবছর দেবী দুর্গার আগমন তার ভক্তদের হৃদয়ে জাগিয়ে তোলে নতুন আশা ও কল্যাণের প্রত্যয়। অন্যায়, অসত্য ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে ন্যায় ও মানবতার চিরন্তন আহ্বান।’’। যা আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি অনন্য উদাহরণ। মানুষে-মানুষে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয়।

দেশের সব ধর্মীয় সম্প্রদায় যাতে সম্পূর্ণ নিরাপদ, মুক্ত ও আনন্দময় পরিবেশে নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি পালন করতে পারেন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, প্রতিটি ধর্মই মানুষকে সত্য, ন্যায় ও সংযমের শিক্ষা দেয়। তাই ধর্মীয় পরিচয় যা-ই হোক না কেন, কোনো মানুষ যাতে বৈষম্য বা নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রসহ আমাদের সবার দায়িত্ব।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি আহ্বান জানান যেন দুর্গোৎসবের এই আনন্দ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে। সব ভেদাভেদ ভুলে মানবতা ও কল্যাণের বার্তা প্রতিটি ঘরে পৌঁছে যাক—এমন প্রত্যাশা প্রকাশ করে তিনি শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। এ উৎসবে সমাজের সব স্তরের মানুষ আবদ্ধ হন সৌহার্দ্যের বন্ধনে।

শেয়ার করুন