পাবনার ভাঙ্গুড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে নৈশ প্রহরী পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কলেজের সাবেক নৈশ প্রহরী শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, তার ছেলেকে এই পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে অধ্যক্ষ দুই দফায় তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন। তবে এ ধরনের কোনো লেনদেনের কথা অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শফিকুল ইসলাম অবসরে যাওয়ার পর কলেজটিতে নৈশ প্রহরীর পদটি শূন্য হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে প্রথমবার এবং ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে দ্বিতীয়বার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। প্রথম বিজ্ঞপ্তির পরই শফিকুল ইসলাম তার ছেলে মঞ্জুর হাসানকে ওই পদে নিয়োগের জন্য অধ্যক্ষ মোস্তফা কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শফিকুলের দাবি, নিয়োগের নিশ্চিত আশ্বাস দিয়ে অধ্যক্ষ তার কাছ থেকে প্রথম দফায় ৯০ হাজার টাকা এবং পরে আরও ৩০ হাজার টাকা নেন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নৈশ প্রহরী নিয়োগ পরীক্ষায় সাতজন প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন। চূড়ান্ত ফলাফলে নজরুল ইসলাম প্রথম, ওমর ফারুক দ্বিতীয় এবং শফিকুল ইসলামের ছেলে মঞ্জুর হাসান তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। এই ফলাফলের পর শফিকুল ইসলাম জানান, টাকা দেওয়ার পরও তার ছেলেকে নিয়োগ না দেওয়ায় তিনি চরম হতাশায় পড়েছেন। পুরো বিষয়টি নিয়ে তার মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভাঙ্গুড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল জানান, কর্মচারী নিয়োগের বিষয়টি সম্পূর্ণ নিয়োগ বোর্ড এবং সভাপতির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, চাকরি দেওয়ার কথা বলে কারো কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। শফিকুল ইসলামের করা অভিযোগটি তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। এছাড়া অভিযোগকারী শফিকুলের সঙ্গে এ বিষয়ে প্রয়োজন হলে আলোচনা করবেন বলেও জানিয়েছেন অধ্যক্ষ।





