১৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পেটে গজ রেখে সেলাই: ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালের ওটি বন্ধ

প্রকাশ:

ফরিদপুরে অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ রেখে সেলাই দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনিকা মণ্ডল নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হলে শহরের নিলটুলী মুজিব সড়কের সমরিতা জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের ২৯ জুন। প্রসবব্যথা নিয়ে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুরের বাসিন্দা অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী কনিকা মণ্ডল ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। ওইদিন সন্ধ্যায় হাসপাতালের কনসালটেন্ট ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ সার্জন ডা. লক্ষী রানী দত্ত তার সিজারিয়ান অপারেশন করেন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কনিকা একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। পরিবারের অভিযোগ, সিজারের পর থেকেই কনিকার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। পেট ফুলে যাওয়া ও অসহ্য ব্যথাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় তিনি ভুগছিলেন। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ১৯ আগস্ট গভীর রাতে তাকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। একপর্যায়ে তার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় এবং বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়।

ঢাকার চিকিৎসকদের নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কনিকার পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেই গজ বের করা হয়। তবে দীর্ঘ চিকিৎসাধীন থাকার পরও ১৯ আগস্ট রাতেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনার পর কনিকার স্বামী অশান্ত মণ্ডল অভিযোগ করেন যে, অভিযুক্ত চিকিৎসক লক্ষী রানী দত্ত ভুল চিকিৎসার দায় স্বীকার করে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে তার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশে গত মঙ্গলবার বিকেলে সমরিতা হাসপাতালের ওটি কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

কনিকা মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনার পরদিন সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন তার বাড়িতে যান এবং বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন। এই ঘটনার জেরে সমরিতা হাসপাতালের চিকিৎসা মান ও অস্ত্রোপচারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ত্রোপচার পরবর্তী যাচাই ও গজ গণনার মতো সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছিল কিনা, কিংবা রোগীর শারীরিক অবনতি কেন যথাসময়ে শনাক্ত করা হয়নি, তা এখন তদন্তের মূল বিষয়। সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের অংশ হিসেবেই এই ওটি বন্ধের নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে।

শেয়ার করুন