ভোলার চরফ্যাশনে আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে স্কুলশিক্ষকের ছেলে ও ভাতিজাকে অপহরণ করে মারধর এবং তাদের হাতে ইয়াবা দিয়ে ভিডিও ধারণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে ওই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীদের স্বজনরা। গত ২৩ সেপ্টেম্বর মামলার হাজিরা দেওয়ার জন্য স্কুলশিক্ষক বিধান চন্দ্র বিশ্বাস তার ছেলে সুব্রত ও ভাতিজা তাপসকে নিয়ে আদালতে যান। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে আদালতের পাশ থেকে চা পান শেষে বের হওয়ার পরপরই ৮-১০ জনের একটি দল তাদের তুলে নিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, চরফ্যাশন গরুহাটের পশ্চিম পাশে নির্জন স্থানে নিয়ে সুব্রত ও তাপসকে মারধর করা হয় এবং তাদের হাতে পাঁচটি ইয়াবা ধরিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। অভিযুক্তরা ওই ছবি ও ভিডিও প্রশাসনের কাছে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে। এছাড়া ভুক্তভোগীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে শিক্ষক বিধান চন্দ্র বিশ্বাসের কাছেও মুক্তিপণ চাওয়া হয়। ওই সময় বিধান চন্দ্র বিশ্বাস বিষয়টি নজরুলনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সজীব শাহরিয়ারকে অবহিত করেন এবং পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানা পুলিশকেও জানানো হয়।
সোমবার বিকেলে ভুক্তভোগীদের স্বজন ও স্থানীয়রা উপজেলার নজরুলনগর ইউনিয়নের কুরালিয়া স্লুইস বাজার এলাকায় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে বক্তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে বলেন, কাউকে হয়রানি বা মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ইয়াবা ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। নজরুলনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সজীব শাহরিয়ার জানান, ঘটনার দিন শিক্ষক বিধান চন্দ্র বিশ্বাসের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর তিনি বিষয়টি তাকে জানিয়েছিলেন, যা তিনি পরে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করেন।
উল্লেখ্য, কুরালিয়া স্লুইস বাজার এলাকার স্কুলশিক্ষক বিধান চন্দ্র বিশ্বাসের সঙ্গে স্থানীয় যুবক প্রকাশ ও কিশোরের প্রায় দুই বছর আগে কথা কাটাকাটি হয়। সেই ঘটনার সূত্র ধরে কিশোরের পক্ষ থেকে বিধান চন্দ্র বিশ্বাসসহ তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে যুবক প্রকাশ ও কিশোর নিজেদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন। দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসান কবীর জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





