কক্সবাজারে পাহাড় ধস ও পানিতে ডুবে দুইজনের প্রাণহানি

প্রকাশ:

কক্সবাজার শহরতলীর কলাতলী ঝিরিঝিরি পাড়ায় পাহাড় ধসে রোজিনা আকতার (৩০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই এলাকার আবদুল মজিদের স্ত্রী ছিলেন। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি নিজ রান্নাঘরে রাতের খাবার তৈরি করছিলেন, এমন সময় বিকট শব্দে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে তাদের বসতবাড়ির ওপর পড়ে। স্থানীয় আবদুল হাকিম জানান, ঘটনার সময় রোজিনার তিন সন্তান পাশের আত্মীয়ের বাড়িতে থাকায় তারা প্রাণে রক্ষা পায়। পাহাড় ধসের বিকট শব্দ শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলেও কেউ মাটিচাপা পড়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে পারেননি। ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় মাটি সরিয়ে রোজিনার মরদেহ উদ্ধার করেন। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আলী জানান, রাত ১১টার দিকে পুলিশ খবর পায় এবং রাত ২টার দিকে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইউনুস জানান, বন বিভাগের জমিতে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে দীর্ঘ দিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস করছিলেন তারা।

অপরদিকে, রামুতে পানিতে ডুবে সাজিদুল ইসলাম (১৫) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সে রামু ঈদগড় ২ নং ওয়ার্ডের কোনার পাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুলাই সাজিদ তার বন্ধুদের সঙ্গে পাহাড়ি ঢলে ভেসে আসা লাকড়ি ধরতে গিয়ে ঈদগড়ের হোসনাকাটা পয়েন্টের ফুলেশ্বরী নদীতে নামে। সেই দিন বিকেলেই সে স্রোতে ভেসে যায়। চার দিন ধরে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা খোঁজাখুঁজির পর শনিবার বিকেলে ঈদগাঁও গজালিয়া নামক স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। ঈদগাঁও থানার ওসি এটিএম সিরাতুল মাজদার জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই স্বজনরা লাশ উদ্ধার করে ঈদগড়ে নিয়ে যায়। রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, রামু থানার একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করেছে।

উল্লেখ্য যে, গত ৮ দিনের অবিরাম বর্ষণে জেলার উখিয়া, কক্সবাজার সদর, চকরিয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় বন্যা ও পাহাড় ধসের ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ৩০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও রোহিঙ্গার সংখ্যাই সর্বাধিক।

শেয়ার করুন