টানা দ্বিতীয়বার সেমিফাইনালে খেলার লক্ষ্য নিয়ে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। এই জয়ের মাধ্যমে ২০২২ সালের বিশ্বজয়ীরা আবারও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। ম্যাচের ৫০ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে দারুণ একটা বল পেয়েছিলেন ব্রিল এমবোলো। তার সামনে ছিলেন দুই ডিফেন্ডার, পাশে ছিলেন আরেক সতীর্থ। তিনি শেষ মুহূর্তে পাস বাড়ান সতীর্থকে, তিনি শট নেবেন, এমন সময়ে স্লাইডিং ট্যাকলে তিনি ঠেকান তাকে। ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল সুইসরা, তবে তা শেষে দেখা গেল আগেই অফসাইডের কাটায় পড়ে গেছেন এমবোলো। প্রথমার্ধের ১১ মিনিটে লিওনেল মেসির কর্নার থেকে পাওয়া বলে মাথা ছুঁইয়ে দলকে এগিয়ে দেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। এরপর প্রথমার্ধের ৪৪ মিনিটে অভিনয়ের দায়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন সুইস তারকা ব্রিল এমবোলো, ফলে সুইজারল্যান্ড ১০ জনের দলে পরিণত হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের পর থেকে আর্জেন্টিনা কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়লে সুইজারল্যান্ড চাপ বাড়াতে থাকে। শেষ দশ মিনিটে আর্জেন্টিনা রক্ষণের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এনদোয়ে দারুণ এক শটে গোল করে সমতা ফেরান। এর আগে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের ভুলে গোল হজমের উপক্রম হলেও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ দারুণ দক্ষতায় এমবোলোকে আটকে দেন। নির্ধারিত সময়ের পর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে মেসি তার জোনে একটা ফ্রি কিক পেয়েছিলেন, তা গিয়ে লেগেছে দেয়ালে। তার আগে পরে মুহুর্মুহু আক্রমণ করেও গোলে দেখা পায়নি আর্জেন্টিনা। ফলে যোগ করা অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধ শেষেও স্কোরলাইন রইল ১-১। সুইজারল্যান্ড টিকে রইল ম্যাচে। এরপর ১১২ মিনিটে এগিয়ে গেল আলবিসেলেস্তেরা। ১১১ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের বাঁকানো শটে আর্জেন্টিনা আবারও লিড পায়। এরপর অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা সময়ে আলমাদার শট সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল ঠেকালেও ফিরতি শটে বল জালে জড়িয়ে জয় নিশ্চিত করেন লাউতারো মার্তিনেজ।
ম্যাচে সুইজারল্যান্ড দলে আরডন জাশারির পরিবর্তে জিবরিল সো খেলেন। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি মিশর ম্যাচের একাদশ অপরিবর্তিত রাখেন। রক্ষণভাগে মলিনা, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, রোমেরো ও তালিয়াফিকো এবং মাঝমাঠে ফার্নান্দেজ, ম্যাক অ্যালিস্টার ও দে পল মাঠে নামেন। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে বিপদ থেকে রক্ষা করেন।




