দাসত্বের সাংবাদিকতাকে মানুষ ঘৃণা করে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব আয়োজিত জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে আগত ও নিউইয়র্কে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। কাদের গনি চৌধুরী বলেন, গত ১৭ বছরে আমরা অনেক সাংবাদিককে দাসত্বের সাংবাদিকতা করতে দেখেছি। এর কারণেই ফ্যাসিবাদী শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে এবং সাংবাদিকদের মর্যাদাকে তারা ম্লান করে দিয়েছে।
সাংবাদিকতা ও সত্যের আরাধনা
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতা হচ্ছে সত্যের আরাধনা। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকের কাজ সত্যকে খুঁজে বের করা এবং সে সত্যকে রক্ষা করা। কারণ সত্য না থাকলে আস্থা থাকে না, আর আস্থার অভাব হলে গণতন্ত্রও টিকে থাকে না। এখানে মিথ্যা কিংবা অর্ধ-সত্যের কোনো স্থান নেই এবং আপসেরও কোনো সুযোগ নেই। সংবাদপত্র দেশের জনগণ ছাড়া অন্য কারও কাছে দায়বদ্ধ নয়। কালোকে কালো আর সাদাকে সাদা বলাই সাংবাদিকতার মূল মন্ত্র হওয়া উচিত। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সেই বাস্তবতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। যারা দীর্ঘ সময় দলীয় ব্যানারের আড়ালে থেকে সাংবাদিকতা করেছেন এবং ক্ষমতার সঙ্গে আঁতাত করে জনগণের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছেন, তারা শেষ পর্যন্ত জনগণের রোষানল থেকে বাঁচতে পারেননি। আজ অনেকেই হত্যা মামলার আসামি হয়ে কারাগারে আছেন, কেউ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, আবার কেউ এখনও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এই কঠিন বাস্তবতা আমাদের সামনে এক অমোঘ সত্য হাজির করেছে—সাংবাদিকতা কখনো দলীয় ব্যানারের ভিত্তিতে টিকে থাকতে পারে না। জনগণের আস্থা হারানো মানেই সাংবাদিকতার মৃত্যু। সাংবাদিকতা কোনো মুনাফাভিত্তিক ব্যবসা নয়, বরং এটি একটি সম্মানের পেশা। সাংবাদিকতার পথ কখনোই সহজ বা মসৃণ ছিল না, তবে বর্তমানে গণমাধ্যমে যে অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে, তা অব্যাহত থাকলে সাংবাদিকরা আরও সাহসী ও সত্যনিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারবেন। তবে যা ইচ্ছা তা লিখলেই সাংবাদিকতা হয় না এবং যা মুখে আসবে তা বলাই বাকস্বাধীনতা নয়। স্বাধীনতার পাশাপাশি সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল হওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি জোর দেন।
ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা ও উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
সাংবাদিক সমাজের বিভাজন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, আজকে আমাদের মাঝে বহু বিভাজনের কারণে আমরাই দিন দিন দুর্বল হচ্ছি, যার সুযোগ নিচ্ছেন সরকার ও মালিক পক্ষ। সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হলে গণমাধ্যমের অনেক সংকট দূর করা সম্ভব হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা যাবে। নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদকের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন নুরুল আলম রোকন, সাঈদ তারেক, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, আবু রুশদ, ফরিদ আলম, গাউছুল আজম বিপু, কেরামত উল্লাহ বিপ্লব, আরিফুল ইসলাম মামুন, মঈনুদ্দীন নাসের, মমিনুল ইসলাম মজুমদার, ওয়াহেদ খান, এবিএম সালেহ উদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম এবং ডা. সারোয়ার ইসলাম প্রমুখ। বক্তারা সাংবাদিকতার নৈতিক অবস্থান এবং পেশাগত মানদণ্ড বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।




