২ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন ও জুনের আগেই ইউপি নির্বাচনের লক্ষ্য ইসির

প্রকাশ:

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো আসন্ন উপনির্বাচনগুলোতেও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহৃত প্রযুক্তির পাশাপাশি আরও উন্নত প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে উপনির্বাচনগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। উপনির্বাচনে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সদস্যরাও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আয়োজিত বৈঠকে আগামী বছরের ৬ জুনের আগেই নির্বাচন শেষ করার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে ইউপি নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ইসি সানাউল্লাহ জানান, প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষে কমিশনের বৈঠকে তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। কমিশন বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে এবং আইন অনুযায়ী অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনও যথাসময়ে আয়োজন করা হবে।

নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন ইসি সানাউল্লাহ। সাম্প্রতিক বন্যার কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা খাতে যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কমিশনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে নির্বাচন আয়োজনের কারণে কোনোভাবেই পরীক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়। এছাড়া নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের আগে প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির জন্য একজন শিক্ষককে অন্তত এক সপ্তাহ সময় দিতে হয়, পাশাপাশি খাতা মূল্যায়ন ও পরীক্ষার প্রাক-প্রস্তুতির বিষয়গুলোও কমিশন যৌক্তিক হিসেবে বিবেচনা করছে।

নির্বাচনের উপযুক্ত সময় নির্ধারণে সময়সূচির সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা চলবে। জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে রোজা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপরই শুরু হবে এসএসসি পরীক্ষা। এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ৬ জুন থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত সময় পাওয়া যাবে। এই সীমিত সময়ের মধ্যে সব নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে কমিশন পর্যালোচনা করছে।

ইউপি নির্বাচনের বিষয়ে আগের প্রাথমিক পরিকল্পনা থেকে কমিশন সরে এসেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তা নাকচ করেন সানাউল্লাহ। তিনি জানান, আগে যে সময়সূচির কথা বলা হয়েছিল, সেটি ছিল প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভার ভিত্তিতে করা একটি সাময়িক বা টেন্টেটিভ পরিকল্পনা। ১৭ সেপ্টেম্বরের আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সভার পর পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। তাই কমিশন আগের অবস্থান থেকে সরে যায়নি; সব তথ্য পর্যালোচনার পর কমিশনের বৈঠকেই চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। এর আগে কমিশন প্রাথমিকভাবে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল, তবে তখনই বলা হয়েছিল যে ওই সময়সূচি চূড়ান্ত নয় এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর তা পুনর্বিবেচনা করা হবে।

শেয়ার করুন