জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিচালনা বিধিমালা-২০০৮ সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার রাতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে এই প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশ করা হয়। নতুন এই সংশোধনীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রতীক ‘নৌকা’ স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনি প্রতীকের তালিকায় নতুন করে ‘না’ প্রতীক যুক্ত করা হয়েছে, যা মূলত একক প্রার্থীর ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৯৪ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা-২০০৮-এর বিধি ৯-এর উপবিধি (১) সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, স্থগিত প্রতীক ছাড়া কমিশনের নির্ধারিত অন্য যেকোনো প্রতীক প্রার্থিতা সাপেক্ষে বরাদ্দ দেওয়া যাবে। ইসির তৈরি প্রতীকের তালিকায় ‘নৌকা’ প্রতীকের পাশে স্পষ্টভাবে ‘স্থগিত’ শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতীক পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রার্থীর হলফনামা দাখিলের নিয়মেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে প্রার্থীর স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং নির্ভরশীলদের আয়কর সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়, বরং ঐচ্ছিক করা হয়েছে। এছাড়া ৩(গ) অনুচ্ছেদে ‘অভিযুক্ত’ শব্দের ব্যাখ্যা স্পষ্ট করা হয়েছে, যেখানে কেবল সেই ব্যক্তিকে অভিযুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে যার বিরুদ্ধে আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ বা চার্জ গঠন করেছেন।
ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত প্রার্থীদের জামিনের কাগজপত্র দাখিলের নিয়মও সহজ করা হয়েছে। আগে জামিনে থাকা প্রার্থীদের জন্য জামিনের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল, যা এখন শিথিল করা হয়েছে। কারাগারে থাকা প্রার্থীদের ক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সত্যায়িত করে জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
নির্বাচনি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রেও সংশোধনী আনা হয়েছে। তফসিল-১-এর ফরম-১-এর তৃতীয় অংশে ‘মনোনীত প্রার্থী কর্তৃক ঘোষণা’র জায়গায় প্রার্থীর নিজস্ব অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি তাঁর মনোনীত নির্বাচনি এজেন্টের অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এসব সংশোধিত বিধান অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রযোজ্য হবে।





