২ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাটোরের মাদ্রাসায় ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য মরদেহ রামেকে

প্রকাশ:

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর ওয়াবদা বাজার এলাকার হযরত রাবেয়া বসরী (রহ.) মহিলা হাফেজিয়া মাদ্রাসার ১৬ বছর বয়সী এক আবাসিক ছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ওই মাদ্রাসার ভেতর থেকে ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃতদেহটি উদ্ধারের পর নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে মরদেহটি অধিকতর আধুনিক পরীক্ষার জন্য রাজশাহীর ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, পরিবারের অসম্মতি থাকলেও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্ত করা হয়েছে এবং পরীক্ষার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি নজরুল ইসলাম জানান, নিহত ছাত্রীর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর মাদ্রাসার সুপার সুলাইমান সরদার (৩৮) ও তার স্ত্রী শিক্ষিকা মদিনা খাতুনকে আটক করা হয়েছিল। তবে তাদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য না পাওয়ায় রাতেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, মঙ্গলবার দুপুরে কিশোরীটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। এদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার মা দাবি করেছিলেন যে সে মাদ্রাসার গোসলখানায় পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে। আবার কারো কারো দাবি, সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছে। ময়নাতদন্তে বাধা দিয়ে স্বজনদের উত্তেজনা সৃষ্টির ঘটনায় মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। নিহত ছাত্রীর মা বিলাপ করে অভিযোগ করেন, 'আমার মেয়েকে খুন করা হয়েছে। সেই বিচার আমি আল্লাহর কাছে দিলাম।'

শেয়ার করুন