২ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নরসিংদী কারাগার লুট: দুই বছরেও উদ্ধার হয়নি ২৭টি অস্ত্র

প্রকাশ:

নরসিংদী জেলা কারাগার থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের একটি বড় অংশ দুই বছর পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় বিক্ষুব্ধ জনতা কারাগারের ফটক ভেঙে ভেতরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। সেই সময় কারাগারের ব্যারাকে থাকা ৮৫টি অস্ত্র এবং প্রায় ৮ হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়ে যায়। একই সাথে কারাগার থেকে ৮২৬ জন কয়েদি বেরিয়ে পড়েছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান ও বিভিন্ন সময় কয়েদিদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে অধিকাংশ অস্ত্র এবং ছয় শতাধিক কয়েদিকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে বর্তমানে ২৭টি অস্ত্র এবং ৬ হাজারের বেশি রাউন্ড গোলাবারুদ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া ১৬৬ জন কয়েদি এখনো পলাতক রয়েছেন।

কারাগার থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং পলাতক আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় নরসিংদীর জনপদে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, এসব অস্ত্র চরাঞ্চলসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, বন্দুকযুদ্ধ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ব্যবহৃত হতে পারে। বিশেষ করে নরসিংদী সদরের আলোকবালি এবং রায়পুরার নীলক্ষায় সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বন্দুকযুদ্ধ ও খুনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই অস্ত্রগুলো জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কারাগার কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, ওই সময়কার অগ্নিসংযোগে পুরো কারাগারের দাপ্তরিক নথিপত্র, কম্পিউটার এবং রেকর্ড ধ্বংস হয়ে গেছে, যা বর্তমান দাপ্তরিক কার্যক্রমে নিয়মিত সমস্যার সৃষ্টি করছে। জেল সুপার মো. তারেক কামাল জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে, জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অস্ত্র উদ্ধারের জন্য নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশিকুর রহমান দাবি করেছেন, অভিযানের ফলে চরাঞ্চল বর্তমানে শান্ত রয়েছে এবং অস্ত্র উদ্ধারের তৎপরতা চলমান আছে।

স্থানীয় আইনজ্ঞ ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ অপরাধীদের হাতে থাকা এসব অস্ত্র অবিলম্বে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। জজ কোর্টের আইনজীবী মুনসুর আলি শিকদার জানিয়েছেন, যারা স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করছে না, তারাই মূলত এই অস্ত্র লুটের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। জুলাই আন্দোলনের সময় নরসিংদী জেলায় সরকারি তালিকায় ২০ জন শহীদ এবং ৪৪৩ জন আহত হওয়ার তথ্য থাকলেও বেসরকারি হিসেবে আহতের সংখ্যা হাজারের বেশি বলে জানা গেছে।

শেয়ার করুন