প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫: ৪০
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক (কলেজ) হিসেবে মাহমুদুর রহমানকে পদায়নের জোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এই পদায়নের পেছনে বড় অঙ্কের ঘুস লেনদেনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা নিয়ে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা বিতর্কিত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকা ব্যক্তিদের পরিবর্তে গ্রহণযোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, মাহমুদুর রহমান ফ্যাসিস্ট ও খুনি হিসেবে পরিচিত হাসিনার ভাতিজা এবং পীরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র শামীমের খালাতো ভাই। এছাড়া তিনি সজীব ওয়াজেদ জয়ের আত্মীয়। ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের থানা ও উপজেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা মাহমুদুর রহমান চাকরি পাওয়ার পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন লোভনীয় পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারকেও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে।
কারমাইকেল কলেজের শিক্ষকরা জানান, ২৭তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে যোগদানের পর থেকেই মাহমুদুর রহমান ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর মাউশি রংপুর অঞ্চলে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদানের পর, পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিকে ম্যানেজ করে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে উপ-বিদ্যালয় পরিদর্শক হিসেবে পোস্টিং বাগিয়ে নেন। সেখানে থাকাকালীন তিনি একটি ঘুস সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন এবং কোটি টাকার বাণিজ্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে মাহমুদুর রহমানের ফাইলটি ঢাকার অতিরিক্ত সচিব ও সচিবের দপ্তর হয়ে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর টেবিলে রয়েছে। মাউশির একজন সাবেক পরিচালক জানান, মাউশির কলেজ ও মাধ্যমিক শাখার পদগুলো অত্যন্ত লোভনীয় হওয়ায় এ ধরনের কর্মকর্তাদের এখানে পদায়নের চেষ্টা করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইমতিয়াজ ইমতি এ ধরনের নিয়োগকে ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এ বিষয়ে কারমাইকেল কলেজের শিক্ষকরা ও মাউশির রংপুর অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক গোলাম মাজেদ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের কাছে মাহমুদুর রহমানের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণসহ ডকুমেন্ট পাঠানো হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। মাহমুদুর রহমান নিজেও এ বিষয়ে কোনো সাড়া দেননি।





