শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে তুরস্কের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত ৯ জুলাই তুরস্কের সকল স্কুলে পাঠানো ১০ দফা নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এখন থেকে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইট, সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বা অন্য কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করতে পারবে না।
নতুন এই নীতিমালার আওতায় নিষিদ্ধ তথ্যের তালিকায় রয়েছে শিক্ষার্থীদের নাম, শ্রেণিভিত্তিক তালিকা, শিক্ষার্থী পরিচিতি নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, পরীক্ষার ফলাফল, উপস্থিতির তথ্য এবং অন্যান্য শিক্ষা-সংক্রান্ত রেকর্ড। একই সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছবি বা ভিডিও প্রকাশের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের আগের সব অনলাইন প্রকাশনা পর্যালোচনা করতে হবে এবং প্রকাশ্যে থাকা শিক্ষার্থীদের ছবি ও ভিডিও দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
তবে শিক্ষামূলক প্রয়োজনে যদি ছবি বা ভিডিও ধারণ কিংবা প্রকাশের প্রয়োজন হয়, তবে তা আগে থেকেই লিখিতভাবে নির্ধারণ করতে হবে। এক্ষেত্রে এর উদ্দেশ্য, প্রকাশের স্থান, সংরক্ষণের সময়সীমা এবং কারা তা দেখতে পারবেন—এই বিষয়গুলো সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
তুরস্কের স্থানীয় গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক শিক্ষক শ্রেণিকক্ষের পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের কার্যক্রমের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করছিলেন। অনেকে ‘সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন, যা নিয়ে সরকার বেশ উদ্বিগ্ন ছিল। গত কয়েক বছরে তুরস্কের বিভিন্ন স্কুলের শ্রেণিকক্ষের ভিডিও লাখ লাখবার দেখা হলেও তা শিক্ষার্থীদের সম্মতি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং শিশু অধিকার নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।
শিক্ষাবিদ ও শিশু অধিকারকর্মীরা তুরস্ক সরকারের এই পদক্ষেপকে সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা তাদের মানবাধিকার ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার পরিপন্থী। বিশ্বজুড়ে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে তুরস্কের এই সিদ্ধান্তকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।





