বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধে ইরানের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। ওমানে শনিবার (১১ জুলাই) অনুষ্ঠিতব্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনার টেবিলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি জানানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা হ্রাস ও আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই মার্কিন প্রশাসন এই চাপ দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম লিখেছে, তেহরান অনানুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের কাছে স্বীকার করেছে যে জাহাজে গুলি চালানো একটি ভুল ছিল। বিবিসি জানিয়েছে, এই হামলার জন্য ইরানিরা নিজেদের একটি দলছুট গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে। মার্কিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে বলেছেন, কিছু কঠোরপন্থি মানুষ ‘ভুল পথে’ গিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়ে আলোচনা বিফলের চেষ্টা করছে। এক মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানিরা আলোচনায় ফিরে এসে জানিয়েছে যে তারা ভুল করেছে এবং আলোচনা চালিয়ে যেতে চায়।
শুক্রবার মার্কিন কর্মকর্তারা এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের নেতৃত্বকে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছে। ওই বার্তায় ইরানের কাছে একটি বিবৃতি চাওয়া হয়েছে, যাতে তারা নিশ্চিত করে যে হরমুজ প্রণালি খোলা আছে এবং তারা বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি করা বন্ধ করবে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি এই বিবৃতি না দেয় তবে তাদের জন্য ভালো ফল হবে না। হোয়াইট হাউজ চাইছে, জাহাজে গুলি করার বিষয়টি ইরান প্রকাশ্যে স্বীকার করুক।
শনিবার ওমানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধি দলে ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার নেতৃত্ব দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এরমধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে কাতারের একটি প্রতিনিধি দল শুক্রবার ইরান সফর করেছে। ট্রাম্প শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন, ইরান আলোচনা চালিয়ে যেতে অনুরোধ করেছে এবং তারা তাতে সম্মত হয়েছেন, তবে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে যুদ্ধবিরতি শেষ।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই করেছিল, যার অংশ হিসেবে ইরান বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে চলাচলের ব্যবস্থা করতে রাজি হয়েছিল। মঙ্গল ও বুধবার উপসাগরীয় অঞ্চলে লড়াই শুরু হওয়ার পর শুক্রবার নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। ওমানের জলসীমা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দেখানো একটি পথ ব্যবহার করার সময় তিনটি জাহাজে আঘাত হানা হয়েছিল। ইরান বারবার দাবি করেছে, একমাত্র ‘নিরাপদ’ পথ হলো তাদের জলসীমা দিয়ে যাওয়া আলাদা একটি পথ।
গত মাসে দুই দেশের মধ্যে ১৪ দফা সমঝোতা হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা যুদ্ধবিরতি বাড়াতে ও সংঘাত শেষ করার কথা বলেছিল। চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান ও ওমানের সঙ্গে মিলে প্রণালি পরিচালনা পদ্ধতি ঠিক করার কথা রয়েছে। ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, নতুন চুক্তি অনুযায়ী ইরান ও ওমান সমন্বয় করে প্রণালি পরিচালনা করবে এবং জাহাজ চলাচলের জন্য কিছু সেবা ফি নেওয়া হতে পারে। সংঘাতের সময় ইরান ‘পারস্য উপসাগর প্রণালী কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি সংস্থা গঠনের মাধ্যমে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল, যা নিরাপদ চলাচলের অনুমতির বিষয় দেখভাল করার কথা ছিল।





