৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকায় লোডশেডিংয়ের নতুন বাস্তবতা মেনে নেওয়ার আহ্বান উপদেষ্টার

প্রকাশ:

রাজধানী ঢাকাকে শতভাগ লোডশেডিংমুক্ত রাখার পূর্বের ধারণা থেকে সরে আসছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, এখন থেকে ঢাকাতেও সাধারণ মানুষের মতো কিছুটা লোডশেডিং মেনে নিতে হবে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

বিদ্যুৎ সংকটের মূল কারণ হিসেবে গ্যাসের ঘাটতিকে দায়ী করেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে বর্তমানের এই লোডশেডিংয়ের সমস্যা আর থাকবে না। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রীরা জানিয়েছেন যে গ্যাসের সংকট কেটে গেলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে এবং বর্তমানের প্রকট সংকট আর থাকবে না।

উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ঢাকায় লোডশেডিং দেওয়া হতো না। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকার মানুষের কণ্ঠস্বর জোরালো এবং সামাজিক পুঁজি বেশি, যার ফলে তাদের মধ্যে একটি বিশেষ ধারণা তৈরি হয়েছিল। তিনি আরও যোগ করেন, ঢাকা দেশের সবচেয়ে বড় শহর এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় বিদ্যুতের ক্ষেত্রে রাজধানী কিছুটা অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছুটা সংকট মেনে নেওয়া প্রয়োজন।

লোডশেডিংয়ের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, ২০২৩ ও ২০২৬ সালের জুন ও জুলাই মাসের গড় লোডশেডিংয়ের তুলনায় বর্তমান বছরের একই সময়ে লোডশেডিং কম ছিল। ২০২৩ সালের জুনে প্রতিদিন গড়ে ৯৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং হলেও ২০২৬ সালের জুনে তা কমে ৭৪১ মেগাওয়াটে নেমে আসে। একইভাবে জুলাই মাসে ২০২৩ সালের ৬১৩ মেগাওয়াটের বিপরীতে ২০২৬ সালে তা ছিল ৪৬০ মেগাওয়াট। তবে আগস্টের চিত্র ছিল ভিন্ন। ২০২৩ সালের আগস্টে গড় লোডশেডিং যেখানে ৩৬০ মেগাওয়াট ছিল, ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে ১ হাজার ৫৬৫ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে। এই আগস্টের পরিস্থিতির কারণ সবার জানা বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শেয়ার করুন