৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপ্রতিমের হারানো নিয়ে জনমনে বাড়ছে গভীর উদ্বেগ

প্রকাশ:

মাত্র তেরো বছর বয়সের একটি শিশুর স্বাভাবিক পৃথিবী হওয়ার কথা ছিল স্কুল, বন্ধুত্ব, পড়াশোনা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে রঙিন সব স্বপ্ন। কিন্তু একটি দেশের প্রেক্ষাপটে অপ্রতিম নামের এই কিশোরের সেই ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এখন সভ্য সমাজের দাবিদাররা যখন তার মৃত্যুর কারণ খুঁজছে, তখন সেই অপ্রতিমের জন্য রাষ্ট্রের কাছে কোনো কবিতা বা সহানুভূতির বাণী কোনো অর্থ বহন করে না। কোনো স্মৃতিসৌধ বা মন্ত্রীর লোক দেখানো শোকবার্তাও তার বাবা-মায়ের শূন্যতা পূরণ করতে পারবে না।

রাষ্ট্রের ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বা লোক দেখানো সহানুভূতি মৃত শিশুকে ফিরিয়ে আনে না। অপ্রতিমের নিথর শরীর একটি বড় প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে—একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে খুঁজে বের করতে রাষ্ট্রের সব যন্ত্র কেন তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়ে ওঠে না? যেখানে মন্ত্রীরা সাহিত্য নিয়ে বা নানাবিধ শৌখিন কাজে ব্যস্ত থাকেন, সেখানে একটি শিশুর জীবনের সুরক্ষায় কোনো সরকারি নোটিশ বা কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ে না।

আইন ও প্রশাসনিক তদন্ত তার নিজস্ব গতিতে চলুক, এতে কারো আপত্তি নেই। কিন্তু মায়ের কাছে আইন মানে কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়; তার কাছে আইন মানে দরজায় ফিরে আসা সন্তানের পায়ের শব্দ। অপ্রতিমের ঘরে সেই শব্দের চিরস্থায়ী নীরবতা এখন রাষ্ট্রের প্রশাসন ও ক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকে প্রকট করে তুলেছে। আমি কাউকে আগাম অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করছি না, বরং কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছি আমাদের চারপাশের সেই সামাজিক নীরবতাকে।

শিশুর মৃত্যুতে কয়েক ঘণ্টার শিরোনাম হওয়া আর পরের দিনই নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে যাওয়া—এই রাজনৈতিক সুবিধাবাদ ও অভ্যাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। অপ্রতিম কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের বা দলের ছিল না; সে ছিল কেবল একজন মানুষ। মৃত শিশুর পাশে দাঁড়িয়ে নিজের রাজনৈতিক পতাকা উড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। বরং একজন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সবার উচিত তার পাশে দাঁড়ানো। কারণ মায়ের কান্নাকে উপেক্ষা করে কোনো রাষ্ট্র নিজেকে নিরাপদ দাবি করতে পারে না।

আজ অপ্রতিমের স্কুলব্যাগটি কোণায় পড়ে আছে, তার কলমটি অসমাপ্ত বাক্যে থেমে আছে। সেই শূন্যতার সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন জাগে—আমরা কি এমন এক সমাজ গড়েছি, যেখানে তেরো বছরের কিশোররাও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছাড়া ঘর থেকে বের হতে পারে না? এই নিরাপত্তাহীনতা ও অব্যবস্থাপনার দায় রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরকেই বহন করতে হবে।

শেয়ার করুন