কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের কিশোর সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর শনিবার বিকেলে কুমিল্লার লালমাই সানন্দা পাহাড় সংলগ্ন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এই ঘটনায়। ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। শোকস্তব্ধ পরিবার ও এলাকার পরিস্থিতি দেখে তিনি তাৎক্ষণিক স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে ফোন করেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই ফোনালাপের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।
ফোনালাপে এমপি মনিরুল হক চৌধুরী স্বরাষ্ট্রসচিবকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকায় অত্যন্ত অসহনীয় একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান। জবাবে স্বরাষ্ট্রসচিব জানান, বিষয়টি তার নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের কাজ চলছে। তিনি পুরো ঘটনার রিপোর্ট পেয়েছেন বলেও নিশ্চিত করেন।
এর আগে, অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর তার বাসায় গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এমপি মনিরুল হক। এসময় অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম সন্তানের অকাল মৃত্যুতে বিলাপ করতে করতে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েন—তার সন্তান কী অন্যায় করেছিল? তিনি বিচার চাওয়ার চেয়েও বেশি ব্যথিত হৃদয়ে ছেলের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। একজন মা হিসেবে জীবন চালানোর অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, তার একটাই সন্তান ছিল। মায়ের আহাজারি দেখে এমপি নিজেও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং সান্ত্বনা দেওয়ার কোনো ভাষা খুঁজে না পেয়ে ব্যথিত কণ্ঠে জানান, এর কোনো জবাব তার কাছে নেই।
উল্লেখ্য যে, সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম গত শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মায়ের মোবাইল ফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয়। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। নিখোঁজের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর শনিবার তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার একজন ব্যবসায়ী। মর্মান্তিক এই ঘটনা স্থানীয় সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে স্বরাষ্ট্রসচিবকে ফোন করেন এমপি মনিরুল হক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফোনে নিজের পরিচয় দিয়ে মনিরুল হক বলেন, ‘আমি মনিরুল হক চৌধুরী বলছিলাম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শুনছেন তো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এখানে কী ঘটনা ঘটেছে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে তিনি বলেন, ‘আমি কল করেছি যে আপনি জানেন কিনা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই ব্যাপারে একটু তড়িৎ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জবাবে অপরপ্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘জ্বি, শুনেছি।





