মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির হাল ধরছেন জেলা কমিটির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন। এই আসনটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক গুঞ্জন থাকলেও, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাষ্ট্রপতির জ্যেষ্ঠ কন্যা ড. শামারু মির্জা। তিনি শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেননি, যা একটি পারিবারিক সিদ্ধান্ত বলেই স্থানীয় পর্যায়ে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী আনুষ্ঠানিকভাবে মির্জা ফয়সাল আমিনের পক্ষে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফয়সাল আমিন বলেন, তিনি দলের পক্ষ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং ভোটের লড়াইয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সমর্থন প্রত্যাশা করছেন। এর বাইরেও জেলা বিএনপির দুই সহ-সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ ও সুলতান ফেরদৌস নম্র চৌধুরী মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন এবং তারা উভয়েই দল থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
নির্বাচনী সমীকরণ নিয়ে রাষ্ট্রপতির দীর্ঘদিনের বন্ধু ও জেলা সুজনের সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মির্জা ফয়সাল আমিনের কোনো বিকল্প নেই। সদ্য নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির দেওয়া উন্নয়ন প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে ফয়সাল আমিনকে প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া ড. শামারু মির্জা সরাসরি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলে তাকে প্রার্থী করার সুযোগ ছিল না। জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ডা. খাইরুল কবিরও একই সুরে বলেন, রাষ্ট্রপতির প্রতিশ্রুত উন্নয়ন ধারা বজায় রাখতে ফয়সাল আমিনই সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী।
গত জাতীয় নির্বাচনের সময় শামারু মির্জা বাবার পক্ষে প্রচারণায় নেমে ভোটারদের নজর কেড়েছিলেন, ফলে তাকে নিয়ে অনেকের প্রত্যাশা ছিল। তবে তার নির্বাচনে না আসার সিদ্ধান্তে অনুসারীদের একাংশের মাঝে হতাশা তৈরি হয়েছে। আগামী ২৯ অক্টোবর এই উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত এই তফসিল অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামীও তাদের প্রস্তুতি জোরদার করেছে এবং দলটির পক্ষ থেকে দেলোয়ার হোসেন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসায় ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনৈতিক আবহে উত্তাপ বাড়ছে। একদিকে জামায়াতের নির্বাচনি তৎপরতা, অন্যদিকে মির্জা পরিবারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঐতিহ্য ধরে রাখার লড়াই—সব মিলিয়ে জেলার সাধারণ মানুষ ২৯ অক্টোবরের ভোটের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন। কার গলায় উঠবে জয়ের মালা, সেটিই এখন স্থানীয়দের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মনোনয়নপত্র গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মির্জা ফয়সাল আমিন বলেন, মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: খাইরুল কবির বলেন, যেহেতু সদ্য নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি এই আসনে উন্নয়নের অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাই সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে মির্জা ফয়সাল আমিনের বিকল্প নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আশা করছি ভোটের মাঠে আপনারা আমাকে সর্বাত্মকভাবে পাশে পাবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ আসনে কে টিকিট পাচ্ছেন এবং কার কাঁধে দায়িত্ব আসছে—তা নিয়ে পুরো জেলার সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশ কৌতুহল ও গুঞ্জন ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিগত জাতীয় নির্বাচনে শামারু মির্জা বাবার পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে স্থানীয় ভোটারদের ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন।





