সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার প্রায় সাতশ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য ও অগুনতি ভক্তের বিশ্বাসের এক পবিত্র কেন্দ্র। দীর্ঘ সময় ধরে প্রচলিত অলিখিত নিয়মে মাজারের দানবাক্স ও ঐতিহাসিক মানতের ডেগের অর্থ ব্যবস্থাপনায় কোনো প্রকাশ্য হিসাবের ব্যবস্থা ছিল না। তবে বর্তমানে আর্থিক প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সিলেট জেলা প্রশাসন নানা কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় চতুর্থবারের মতো মাজারের দানবাক্স ও ডেগ খুলে প্রকাশ্যে টাকা গণনা করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ রানা।
মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গত ১২ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম প্রথম প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১৮ জুন মাজার প্রাঙ্গণে চারটি নতুন স্বচ্ছ দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে এতদিন ব্যবহৃত ঐতিহাসিক তিনটি মানতের ডেগ ও পুরনো সিন্দুকগুলো সিলগালা করে প্রশাসনের নজরদারিতে আনা হয়। এই নজিরবিহীন পদক্ষেপটি সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
প্রশাসনিক নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে গত ২২ জুন মাজারের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সিলগালা করা ডেগ ও দানবাক্সগুলো উন্মুক্ত করে জনসমক্ষে গণনার আয়োজন করা হয়। প্রথম দফার গণনায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া গিয়েছিল, যা তাৎক্ষণিকভাবে সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামে খোলা নতুন অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করে গত ১১ জুলাই দ্বিতীয়বারের মতো গণনা সম্পন্ন হয়। সর্বশেষ ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফার গণনায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকাসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা এবং স্বর্ণ-রৌপ্যের অলঙ্কার পাওয়া যায়। এ পর্যন্ত তিন দফায় মোট ১ কোটি ৪০ লাখ ৬৪ হাজার ৩৭ টাকা জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে থাকা ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়েছে। আগামী শনিবার চতুর্থবারের মতো এই উন্মুক্ত গণনার মাধ্যমে দরগাহের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ধারা অব্যাহত থাকবে বলে স্থানীয় সচেতন মহল প্রত্যাশা করছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সিলেটের ৭০০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য ও ভক্তদের বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রথম দিনের গণনায় ১৭ লাখ ১৯৬৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়, যা সঙ্গে সঙ্গে সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামে খোলা নতুন অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়।





