৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালি খুললেও কেন স্বাভাবিক হবে না এলএনজি সরবরাহ?

প্রকাশ:

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হলেও কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের এলএনজি বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি শিগগিরই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে না। জ্বালানি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের তথ্যমতে, অবকাঠামোগত ক্ষতি ও আকাশচুম্বী বিমা খরচের কারণে জ্বালানি সরবরাহ আগামী কয়েক মাস এমনকি কয়েক বছর পর্যন্ত সীমিত থাকতে পারে। ব্যাংককে অনুষ্ঠিত গ্যাসটেক কনফারেন্সে শেল-এর সমন্বিত গ্যাসের প্রেসিডেন্ট সেডেরিক ক্রেমার্স বলেন, প্রণালি উন্মুক্ত হওয়া এবং পরিস্থিতির স্বাভাবিক হওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি বিষয়। যুদ্ধের আগের অবস্থায় গ্যাসের প্রবাহ তাৎক্ষণিকভাবে ফিরে আসা কঠিন।

ইরানের হামলার ফলে কাতারের ১৪টি রফতানি ট্রেনের মধ্যে দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে দেশটির মোট এলএনজি উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ বর্তমানে বন্ধ। কাতার এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, এই মেরামতের কাজ সম্পন্ন করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। এর ফলে হরমুজ প্রণালি নিরাপদ হলেও তা কেবল আংশিক সরবরাহের পথই পুনরুজ্জীবিত করতে পারবে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামের (আইইএফ) তথ্যানুযায়ী, কাতার ও আমিরাতের এলএনজি রফতানির কোনো বিকল্প সমুদ্রপথ বা পাইপলাইন নেই। ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়েই সম্পন্ন হয়েছিল।

নিরাপত্তার ঝুঁকি ও উচ্চ বিমা ব্যয়ের কারণে এলএনজি ট্যাংকারগুলো পারস্য উপসাগরে ফিরতে বেশ ধীরগতি দেখাচ্ছে। সেডেরিক ক্রেমার্স জানান, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কাতার ও আমিরাতের প্রায় ৩৬ মিলিয়ন টন এলএনজি সরবরাহ বাজার থেকে অনুপস্থিত রয়েছে। এই ঘাটতির ২০ মিলিয়ন টন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে পূরণ করা গেলেও বাকিটা চাহিদা কমিয়ে ও মজুদ থেকে মেটানো হয়েছে। আইইএফ এবং জাপানের জোগমেকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালে উদ্বৃত্ত তরলীকরণ ক্ষমতা হরমুজের পথ দিয়ে চলাচলকারী এলএনজি প্রতিস্থাপনে পর্যাপ্ত ছিল না, যা প্রায় ১০ মিলিয়ন টন গ্যাসের ঘাটতি তৈরি করেছে।

এই জ্বালানি সংকটে বিশেষ করে এশীয় দেশগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ২০২৪ সালে ভারত তার মোট এলএনজি চাহিদার প্রায় ৭৫ শতাংশ, পাকিস্তান ৮৭ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ৭১ শতাংশই এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে আমদানি করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ইউরোপেও গ্যাসের মজুদ ঐতিহাসিকভাবে নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, ফলে বৈশ্বিক বাজারে বিকল্প কার্গোর জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইরানি হামলায় কাতারের ১৪টি রফতানি ট্রেনের মধ্যে দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশটির প্রায় ১৭ শতাংশ এলএনজি উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে, যার ফলে বাজার থেকে প্রতি বছর ১২৮ মিলিয়ন টন গ্যাস কমে গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সপ্তাহের পর সপ্তাহ বন্ধ থাকবে সৌদির তেল পাইপলাইন, আরও কমবে তেল সরবরাহসপ্তাহের পর সপ্তাহ বন্ধ থাকবে সৌদির তেল পাইপলাইন, আরও কমবে তেল সরবরাহ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফেব্রুয়ারির এই বিঘ্ন ঘটার সময় বৈশ্বিক এলএনজি বাজারের সরবরাহ বিগত বছরগুলোর তুলনায় কম ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হরমুজের আকাশে এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানেরহরমুজের আকাশে এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২৪ সালে ভারত তার এলএনজির প্রায় ৭৫ শতাংশ হরমুজ মাধ্যম থেকে সংগ্রহ করেছিল, যেখানে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৮৭ শতাংশ এবং বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ৭১ শতাংশ।

শেয়ার করুন