৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের চাপ সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যে সেনা পাঠাবে না দক্ষিণ কোরিয়া

প্রকাশ:

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বিরোধে সামরিক সহায়তার অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে কোনো সেনা মোতায়েন করবে না দক্ষিণ কোরিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে চাপ থাকলেও নিজের অবস্থানে অটল রয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং। গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, দক্ষিণ কোরিয়াকে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলে এমন কোনো সামরিক পদক্ষেপে অংশ নেবে না তার দেশ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণের মতো কোনো মোতায়েন করা হবে না এবং এ কাজে কোনো সামরিক সরঞ্জামও দেওয়া হবে না।

তবে আঞ্চলিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখছে সিউল। প্রেসিডেন্ট লি জানান, বাণিজ্যিক জাহাজ ও অপরিশোধিত তেল পরিবহন এবং সেখানে অবস্থানরত দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের সুরক্ষায় ন্যূনতম কিছু ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। এর আগে সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যু দমনের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনীর একটি ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছিল। এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সিউলের সমর্থন পর্যাপ্ত নয় বলে ট্রাম্প সমালোচনা করলেও, সম্প্রতি দুই দেশের সামরিক মহড়ার পরিধি কমিয়ে আনার বিষয়টিও দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে অস্বস্তি তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়টি নিয়েও কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট লি। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত প্যাকেজটির ব্যবসায়িক লাভজনকতা নিশ্চিত করাটাই এখন প্রধান বাধা। গত বছর দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন খাতে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যার বিনিময়ে মার্কিন শুল্ক ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা রয়েছে। তবে প্যাকেজটির কিছু শর্ত মেনে নেওয়া দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য চ্যালেঞ্জিং হলেও, উভয় দেশ এখন সমঝোতার কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিনিয়োগের এই রূপরেখা নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার পার্লামেন্টে সরকারের ব্রিফিং চলতি সপ্তাহে স্থগিত করা হয়েছে, যা আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের মধ্যে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন লি। তবে এই বৈঠক ফলপ্রসূ হওয়ার জন্য বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। চাকরির আরও তথ্য: আমি বিষয়টি খুব স্পষ্ট করে বলতে পারি। চাকরির আরও তথ্য: এর মধ্যেই চলতি গ্রীষ্মে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর বড় ধরনের যৌথ মহড়াও কমিয়ে দেয়া হয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: এতে দীর্ঘদিনের মার্কিন মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: এদিকে হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য সামরিক মোতায়েনের বিষয়টি পর্যালোচনা করছে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার। চাকরির আরও তথ্য: তবে দেশটির অভ্যন্তরে এ উদ্যোগের জনপ্রিয়তা কম বলে জানা গেছে।

শেয়ার করুন