৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে মূল্যস্ফীতি কমে ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন

প্রকাশ:

দেশের বাজারে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির দাপট কিছুটা শিথিল হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সবশেষ তথ্যানুযায়ী, টানা তিন মাস হ্রাসের ধারায় আগস্ট মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমে এসেছে। এটি গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন মূল্যস্ফীতির হার। এর আগে জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ, অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে এটি শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে।

চলতি বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪২ শতাংশের চূড়ায় পৌঁছালেও পরবর্তী তিন মাসে সামগ্রিক চাপ কিছুটা কমেছে। মে মাসের তুলনায় আগস্টে মূল্যস্ফীতি ১ দশমিক ১৬ শতাংশীয় পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছে। পর্যালোচনায় দেখা যায়, জুন মাসে এটি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। এছাড়া গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছিল। নভেম্বরে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ থেকে শুরু হয়ে ফেব্রুয়ারিতে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং এপ্রিলে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশে অবস্থান করেছিল। তবে জুন মাসের পর থেকে সূচকটি ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার গতি ধীর হওয়া বড় ভূমিকা রাখছে। আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ০২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের মাস জুলাইয়ে ছিল ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। গত বছরের আগস্ট মাসের ৭ দশমিক ৬০ শতাংশের তুলনায় এটি কম। এছাড়া গ্রাম ও শহর—উভয় অঞ্চলেই মূল্যস্ফীতির হার কমেছে। আগস্টে গ্রামে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং শহরে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে, যা জুলাই মাসে ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৩৬ ও ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ।

সরকারের নানামুখী নীতিগত পদক্ষেপের ফলে বাজারে পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর হ্রাস করা হয়েছে। পাশাপাশি ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি এবং টিসিবির কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে নিত্যপণ্যের দাম ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চলছে। এমনকি ভর্তুকি ছাড়াই কিছু পণ্য আমদানির নতুন উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকার মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। আগস্টের তথ্য সেই লক্ষ্য অর্জনের দিকে অগ্রগতির একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ পণ্যের দাম হ্রাস পাওয়া নয়, বরং দাম বাড়ার গতি কমে আসা। তাই সাধারণ মানুষের স্বস্তি বজায় রাখতে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যচাপ আরও প্রশমন করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

বর্তমানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের ঘরে নেমে আসায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তির আশা জাগছে। এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে অব্যাহত থাকলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও সহনীয় পর্যায়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাম্প্রতিক তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডিসেম্বরে তা বেড়ে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে দাঁড়ায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মার্চে কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ হলেও এপ্রিলে আবার বেড়ে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং মে মাসে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে ওঠে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সঙ্গে কম আয়ের মানুষের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও ওএমএস সম্প্রসারণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তুলনামূলক কম দামে আমদানি করা কিছু নিত্যপণ্য ভর্তুকি ছাড়াই বাজারে বিক্রির নতুন উদ্যোগও নিচ্ছে টিসিবি।

শেয়ার করুন