৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকুন্দিয়ায় চার দপ্তরের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ইউএনও রূপম দাস

প্রকাশ:

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় প্রশাসনিক এক নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস। তিনি বর্তমানে একই সঙ্গে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকুন্দিয়ায় যোগ দেওয়ার পর থেকে ধাপে ধাপে তাঁকে এই বাড়তি দায়িত্বগুলো নিতে হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি তিনি এখন সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং পাকুন্দিয়া পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

প্রশাসনিক এই জটিলতা তৈরির পেছনে রয়েছে বেশ কিছু কারণ। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পাকুন্দিয়া পৌরসভার মেয়রের পদ শূন্য হয়ে যায়। এরপর প্রশাসনিক শূন্যতা পূরণে এই দুই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পণ করা হয়। এছাড়া ২০২৬ সালের ৩ আগস্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান বদলি হয়ে গেলে ভূমি অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্বও তাঁর কাঁধে এসে পড়ে। ফলে প্রতিদিনের দাপ্তরিক কর্মযজ্ঞের পাশাপাশি তাঁকে এখন ভূমি সংক্রান্ত নথি নিষ্পত্তি, পৌর নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করা এবং উন্নয়নমূলক কাজের তদারকি করতে হচ্ছে।

অতিরিক্ত কাজের চাপের বিষয়ে ইউএনও রূপম দাস জানান, অফিস সময়ের পর বাংলোতে গিয়েও তাঁকে রাত ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ফাইলের কাজ করতে হয়। এর বাইরেও জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন জরুরি মিটিং, সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মতো বাড়তি দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে তাঁকে। তিনি বলেন, চারটি দপ্তরের দায়িত্ব পালন অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ, তবে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিনি জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা দিতে বদ্ধপরিকর। নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্রুত পদায়ন হলে কাজের চাপ অনেকখানি লাঘব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উপজেলায় সেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালামের মতে, ইউএনও অফিসে এসে দ্রুত পরামর্শ ও সেবা পাওয়া যাচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা হলে সাধারণ মানুষের জন্য সেবা নেওয়া আরও সহজতর হতো। সাংবাদিক হারিছ আহমেদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তার অভাবে স্থানীয় প্রশাসনের ওপর অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বিষয়টিকে কেবল একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত দক্ষতার নজির হিসেবে না দেখে, প্রশাসনিক কাঠামোর একটি সংকট হিসেবে দেখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত শূন্য পদগুলোতে নতুন নিয়োগ নিশ্চিত করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে নাগরিক সেবা প্রদানের গতি ও মান ধরে রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়বে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একসঙ্গে চারটি দপ্তরের দায়িত্ব সামলানো প্রশাসনিকভাবে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।

শেয়ার করুন