ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত মঙ্গলবার ঘটা এই বিস্ফোরণটি কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের পর গোলাবারুদ ছিটকে গিয়ে নয়, বরং সরাসরি মার্কিন অস্ত্রের আঘাতেই হয়ে থাকতে পারে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে। তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই এর বিষয়ে জানতে চাই। রয়টার্সের যাচাই করা ছবি ও ভিডিও চারজন সামরিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞ পর্যালোচনা করেছেন। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের ক্ষয়ক্ষতির ধরন সরাসরি কোনো গোলাবারুদের আঘাতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তিনজনের ধারণা, ব্যবহৃত অস্ত্রটি সম্ভবত মার্কিন অস্ত্র ছিল, কোনো লক্ষ্যভ্রষ্ট ইরানি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র নয়। অপর একজন বিশেষজ্ঞের মতে, মার্কিন অস্ত্রটি তার নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে ব্যর্থ হয়ে থাকতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত ওই হামলার দায় স্বীকার করেনি যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের প্রতিবেদন সম্পর্কে অবগত, তবে তাদের দাবি যুক্তরাষ্ট্র কখনো বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিকেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে হতাহতের ঘটনায় মার্কিন হামলা, ইরানি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ছিটকে যাওয়া কিংবা লক্ষ্যভ্রষ্ট কোনো প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত—সব সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় আহত ২২ বছর বয়সী এক নারী বৃহস্পতিবার হাসপাতালে মারা যাওয়ায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে। এছাড়া প্রায় ৭০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে হরমুজ প্রণালির উপকূলবর্তী সিরিক কাউন্টির কুহেস্তাক গ্রামের বাইরে নিহতদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। শোকাহত মানুষের উপস্থিতিতে সামরিক সদস্যদের সারির পাশ দিয়ে কফিনগুলো বহন করা হয়, যার মধ্যে একটি ছোট শিশুর মরদেহও ছিল। স্থানীয় এক বাসিন্দা তাসনিম নিউজকে জানিয়েছেন, এটি কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না, বরং সাধারণ মানুষের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল, যা মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে।
এর আগে ছয় মাস আগে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৭৫ জনের বেশি শিশু ও শিক্ষক নিহত হওয়ার দাবি করেছিল ইরান। রয়টার্সের আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ তদন্তে ওই হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী দায়ী হওয়ার সম্ভাবনা উঠে এসেছিল, তবে পেন্টাগন সেই ফলাফল প্রকাশ্যে আনেনি।





