প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮: ২৩। গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে অন্য দেশে পাঠানোর একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা সামনে এনেছেন ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির। ‘ডিসএনগেজমেন্ট ৭১০’ নামের এই প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী সাত বছরের মধ্যে গাজা থেকে প্রায় ১৮ লাখ ৬০ হাজার ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইহুদি শ্রেষ্ঠত্ববাদী দল ওতজমা ইয়েহুদিতের নেতা বেন গভির গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরে এই পরিকল্পনাটি তৈরি করেছেন বেন গভির। তার প্রস্তাবিত রূপরেখায় প্রথম বছরে ২ লাখ ৫০ হাজার, তিন বছরের মধ্যে ১১ লাখ ১০ হাজার এবং সাত বছরের মধ্যে মোট ১৮ লাখ ৬০ হাজার ফিলিস্তিনিকে গাজা থেকে স্থানান্তরের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সাত বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রথম বছরেই ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হতে পারে।
বেন গভির বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট সরকারের অংশ। ভবিষ্যতে নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রেও তিনি এই পরিকল্পনাকে জোটে যোগ দেওয়ার শর্ত হিসেবে রাখতে চান। একই সুর শোনা গেছে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের কণ্ঠেও। বুধবার তিনি মন্তব্য করেন যে, শেষ পর্যন্ত অভিবাসন ছাড়া গাজার জন্য কোনো বাস্তব সমাধান নেই। কাৎজ আরও দাবি করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিকল্পনা বাতিল করেননি, বরং আরব দেশগুলোর চাপের মুখে তা স্থগিত রেখেছেন।
জুনের শেষ দিকে ইসরাইল এই পরিকল্পনার নাম ‘স্বেচ্ছা অভিবাসন’ থেকে পরিবর্তন করে ‘চলাচলের স্বাধীনতা পরিকল্পনা’ বা ‘ফ্রিডম অব মুভমেন্ট প্ল্যান’ রাখে। তবে এতে ফিলিস্তিনিদের নিজেদের ভূমিতে ফিরে আসার অধিকারের কোনো নিশ্চয়তা নেই। সমালোচকেরা বলছেন, গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৮০ শতাংশেরও বেশি ঘরবাড়ি, স্কুল, হাসপাতাল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে এবং খাদ্য-পানির সরবরাহ সীমিত করা হয়েছে। এমন জীবনযাপনের অনুপযোগী পরিস্থিতির মুখে মানুষকে চলে যেতে বাধ্য করাকে কখনোই ‘স্বেচ্ছা’ অভিবাসন বলা যায় না।





