আরাকান আর্মির হাতে দীর্ঘ ৯ মাস জিম্মি থাকার পর ২৪ জন জেলে ও মাঝিমাল্লা দেশে ফিরে এসেছেন। বুধবার দুপুরে টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিট জেটিঘাট সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় আরাকান আর্মি একটি ট্রলারে করে তাদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে বিজিবি তাদের টেকনাফ জেটিঘাটে নিয়ে আসে।
ফেরত আসা এই ২৪ জনের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক এবং ৬ জন রোহিঙ্গা রয়েছেন। বর্তমানে তাদের যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। বুধবার দুপুরে টেকনাফ বাংলাদেশ-মিয়ানমার ট্রানজিট জেটিঘাটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করে মিয়ানমারের জলসীমায় ঢুকে পড়ায় এই জেলেরা আরাকান আর্মির হাতে আটক হয়েছিলেন। বিজিবির বিশেষ প্রচেষ্টায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বন্দিদশা থেকে ফিরে আসা সাবরাংয়ের কোয়ানছড়িপাড়ার বাসিন্দা মো. শফিক জানান, তারা ৬ জন মাঝিমাল্লাসহ সেন্টমার্টিনের পূর্বদিকে সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। সে সময় আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে আটক করে নিয়ে যায়। শফিক বলেন, 'প্রায় ৯ মাস আমাদের বন্দিজীবন কাটাতে হয়েছে। সেখানে আমাদের ওপর নির্যাতন চালানো হতো। প্রতিদিন প্রায় ৭ ঘণ্টা শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে হতো, কাজ করতে না চাইলে ব্যাপক মারধর করা হতো। সারাদিনের জন্য দেওয়া হতো মাত্র একবেলা ভাত।'
দীর্ঘ ৯ মাসের মানবেতর জীবন শেষে দেশে ফিরতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন শফিক। তিনি আরও জানান, দেশে এসে বিজিবির কাছ থেকে দীর্ঘ সময় পর তিনি ভালোভাবে খাবার পেয়েছেন। তবে মিয়ানমারের ওই এলাকায় এখনও রোহিঙ্গাদেরসহ আরও অর্ধশতাধিক জেলে আটকা রয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।





