১১ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৫ শিক্ষিকার লিখিত অভিযোগ

প্রকাশ:

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার গুপিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খুরশিদ জিন্নাহর বিরুদ্ধে গুরুতর সব অভিযোগ তুলেছেন বিদ্যালয়ের পাঁচজন সহকারী শিক্ষিকা। গত ১৩ সেপ্টেম্বর তারা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন, অশালীন আচরণ, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষিকাদের প্রতি অমানবিক আচরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই বিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী ৫ সহকারি শিক্ষিকা। তবুও প্রধান শিক্ষক অফিসরুম থেকে বের হন নাই। গুপিড়পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই একইভাবে নারী শিক্ষিকাদের সঙ্গে বিতর্কিত আচরণ করে আসছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষিকারা জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে তাদের ওপর বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। শামীমা জাহান, আমিনা খাতুন সনি, ফারজানা ইয়াসমিন, মর্জিনা খাতুন ও সুরাইয়া পারভীনসহ অন্যান্য শিক্ষিকাদের ভাষ্যমতে, প্রধান শিক্ষকের আচরণ মোটেও শিক্ষকসুলভ নয়। গত ১১ বছর ধরে তারা এই পরিস্থিতির শিকার। শিক্ষিকাদের অভিযোগ, কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রধান শিক্ষক প্রায়ই তাদের বদলি, শোকজ ও নানা ধরণের হয়রানির হুমকি দিয়ে থাকেন। স্কুল চলাকালীন তার চিৎকার-চেচামেচি আর বাজে ব্যবহারের কারণে পরিবেশ বিঘ্নিত হয় বলেও জানান তারা। মাঝে মধ্যেই কু-প্রস্তাব দেন, তার কথা না শুনলে গালিগালাজ, বদলি, শোকজসহ নানা হুমকি দেন।

শিক্ষিকাদের ভাষ্যে, শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও প্রধান শিক্ষক অশালীন আচরণ করেন। গত ৪ আগস্ট বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করে শ্রেণিকক্ষে সেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলেন শামীমা জাহান। কিন্তু শিশুটিকে সাহায্য করার সময় প্রধান শিক্ষক তার সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেন এবং মারমুখী হয়ে ওঠেন। প্রতিবাদের মুখে অন্যান্য শিক্ষিকাদের সঙ্গেও তিনি খারাপ আচরণ করেন। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও জামুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক থাকাকালে খুরশিদ জিন্নাহ একই ধরণের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন এবং সেসময় তাকে বহিস্কার করা হয়েছিল। ভুক্তভোগী শিক্ষিকা শামীমা জাহান কাঁদতে কাঁদতে বলেন, গত ৪ আগষ্ট বিদ্যালয়েল প্রথম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী অসুস্থ্য হয়ে বমি করতে থাকে। শিশুটিকে উদ্ধার করে শ্রেণীকক্ষে নিয়ে এসে মাতৃসুলভ মমতায় সেবা করে সুস্থ্য করে তুলি। আমি যখন শিশুটিকে নিয়ে ক্লাসরুমে ঢুকছিলাম।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক খুরশিদ জিন্নাহ সাংবাদিকদের সামনে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং কোনো ভিডিও বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আপেল মাহমুদ জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুতই প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। তিনি আরো বলেন গত ২০ তারিখে এ বিষয়ে তদন্ত হয়েছে তবে তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে শংকায় আছি।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাহার উদ্দিন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষিকাদের লিখিত অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন