২১ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহজালাল বিমানবন্দরে ভোগান্তি ও অপপ্রচার নিয়ে আলোচনা

প্রকাশ:

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের নানা ধরনের হয়রানি এবং ভোগান্তির চিত্র বেশ পুরনো। সাম্প্রতিক সময়ে লাগেজ হাতে পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, ইমিগ্রেশনে নানা জটিলতা এবং মালামাল বহনের জন্য প্রয়োজনীয় ট্রলি না পাওয়ার মতো ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। এর মধ্যে সম্প্রতি নেপালগামী তিন তরুণীকে যাত্রায় বাধা দেওয়া এবং বিমানবন্দরকেন্দ্রিক একটি বিশৃঙ্খলার ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতের সহযোগী সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়ার পর এই ভোগান্তির বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করছেন, আবার কেউ কেউ পুরনো ঘটনার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করছেন যাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ওদিকে বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি গোষ্ঠী সাম্প্রতিক সময়ে অপপ্রচারণাও চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েক মাসেও এ চিত্র খুব একটা বদলায়নি। এ ধরনের অপপ্রচারের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি ট্রলি সংকটের কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে; তার প্রত্যেকটির সত্যতা মিলেছে।

মন্ত্রণালয় ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে চার হাজার ট্রলি সচল থাকার দাবি করা হলেও বাস্তবে যখন একসঙ্গে কয়েকটি ফ্লাইট অবতরণ করে, তখনই তীব্র ট্রলি সংকট দেখা দেয়। গত ১লা অক্টোবর মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং ট্রলি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরের বেল্ট এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক সেখানে উপস্থিত হলে সাবেক এমপি আখতারুজ্জামান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান এবং পরিচালককে হুমকি দেন। একই সময় প্রটোকল সহকারীদের ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়ায় এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার একাধিক ভিডিও পরবর্তীতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাকে হট্টগোল করতে দেখা যায়। সরজমিন বিমানবন্দর এপ্রোন এলাকা ঘুরেও এমন চিত্র দেখা গেছে। কয়েক মাস আগে ট্রলি সংকট কাটাতে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে ট্রলি আনা হয়।

সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা তৈরি এবং দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে পরবর্তীতে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে। একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করার পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিমানবন্দরে নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের মতে, সীমাবদ্ধ সক্ষমতার কারণে মাঝেমধ্যে সেবা ব্যাহত হয়। প্রয়োজনের তুলনায় জনবল বা সরঞ্জাম কম থাকায় এবং পিক-আওয়ারে একসঙ্গে কয়েকটি বড় বিমান নামলে ট্রলি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে অনেক সময় কিছু কর্মকর্তার অপেশাদার আচরণ ও ছোটখাটো বিষয় নিয়ে হয়রানি করার কারণেও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ে।

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরা গণমাধ্যমকর্মী আবুল কালাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে লিখেছেন, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর লাগেজ পেতে তার প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লেগেছে। এর মধ্যে একটি লাগেজের লক ভাঙা এবং অন্যটি খোলা অবস্থায় ছিল। তার এই পোস্টটি দ্রুত অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। এর দু’দিন আগে সৌদি আরব থেকে আসা মফিজুল আলম নামে আরেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দেশে নেমেই তাকে ৪৫ মিনিট লাগেজের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে এবং এরপর ট্রলি পেতেও বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তিনি লিখেন, আজ আমেরিকা থেকে দেশে ফিরে এয়ারপোর্টে লাগেজ পেয়েছি দেড়ঘণ্টা পর।

অন্যদিক, বিমানবন্দরের এই বাস্তবিক অব্যবস্থাপনাকে পুঁজি করে একটি চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরনো সব ভিডিও নতুন বলে প্রচার করছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি জানান, বিমানবন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে কিছু চক্র অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনার ভিডিও ক্লিপ বর্তমানের দাবি করে অপতথ্য ছড়াচ্ছে। তবে যাত্রী সেবার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, পাশাপাশি যারা নিষ্ঠার সাথে কাজ করবেন তাদের পুরস্কৃত করা হবে।

শেয়ার করুন