ভোলার লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নে শিমগাছ রোপণ নিয়ে বিরোধের জেরে ধারালো দায়ের কোপে গুরুতর আহত হয়ে মো. ফিরোজ (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকেলে রাজধানীর সুপারম্যাক্স হেলথ কেয়ার লিমিটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত ফিরোজ উপজেলার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বারের দোকান এলাকার ডাক্তার বাড়ির কাশেম আলীর ছেলে এবং কালমা ইউনিয়ন (উত্তর) যুবদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার পরিবারে তিন মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার, যখন ফিরোজ একই বাড়ির বাসিন্দা কাজলের ঘরের পাশে নিজের জমিতে শিমগাছ রোপণ করে সেখানে বাঁশের ঝোপ দেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর কাজলের স্ত্রী জান্নাত সেই ঝোপের বাঁশ কেটে ফেলেন। নামাজ থেকে ফিরে ফিরোজ এটি দেখে বাধা দিলে দুপক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কাজলের ধারালো দায়ের আঘাতে ফিরোজ গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। তাকে প্রথমে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ভোলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় আনা হলে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি মারা যান।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় অভিযুক্ত কাজলকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লালমোহন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নূরুল আমিন। তিনি জানান, মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বর্তমানে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
বাবার অকাল প্রয়াণে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার। বিশেষ করে ১২ বছরের শিশুকন্যা রিতুর আহাজারিতে বাড়ির পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। ‘আমার বাবারে আইন্না দেও, আমার বাবার কী দোষ ছিল? আমগো কী হইবো, আমরা কেমনে থাকমু?’—স্বজনদের সামনে বারবার এমন আর্তনাদ করছে রিতু। প্রিয় বাবাকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ তার স্বজন ও স্থানীয়রা।





