৮ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চরফ্যাশন-ঢাকা নৌরুটে রোটেশন প্রথায় জিম্মি সাধারণ যাত্রী

প্রকাশ:

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বেতুয়া থেকে ঢাকাগামী নৌপথে লঞ্চ চলাচলে রোটেশন প্রথা চালু থাকায় সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। এই রুটে পর্যাপ্ত লঞ্চ থাকলেও মালিকপক্ষের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রতিদিন মাত্র এক থেকে দুটি লঞ্চ চলাচল করে। ফলে যাত্রী চাহিদার তুলনায় আসন ও কেবিনের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে, যা বিশেষ করে ছুটির দিন ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, এই সংকটের সুযোগ নিচ্ছে কিছু অসাধু কর্মচারী ও দালাল। লঞ্চের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ পর্যন্ত টাকা দাবি করা হচ্ছে। এমনকি অতিরিক্ত টাকা দিলেও সহজে কেবিন পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী যাত্রী মো. আলমাস জানিয়েছেন, পূজার ছুটিতে ঢাকা থেকে আসার সময় একটি সিঙ্গেল কেবিন পেতে তাকে ২ হাজার টাকা দিতে হয়েছে এবং প্রভাবশালী কারো মাধ্যমে সুপারিশ করাতে হয়েছে। একইভাবে চরফ্যাশন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন মিয়ার ভাষ্যমতে, মুমূর্ষু রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে গিয়েও পর্যাপ্ত জায়গা না পাওয়ায় চরম ঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে। অনেক সময় বাধ্য হয়ে রোগীদের ডেকে গাদাগাদি করে যাতায়াত করতে হয়।

যাত্রীদের দাবি, জনস্বার্থের তোয়াক্কা না করে ব্যবসায়িক মুনাফাকে অগ্রাধিকার দেওয়াতেই এই রোটেশন প্রথা জিইয়ে রাখা হয়েছে। যদিও মাঝেমধ্যে প্রতিবাদের মুখে এ পদ্ধতি সাময়িক বন্ধ রাখা হয়, তবে কিছুকাল পরেই তা আবার চালু করে দেওয়া হয়। স্থানীয় সচেতন মহল রোটেশন প্রথা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে যাত্রীসেবা স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চরফ্যাশন বেতুয়া নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক পুতুল চন্দ্র রায় জানান, এই রুটে তাসরিফ, কর্ণফুলী ও টিপু কোম্পানির লঞ্চ চলাচলের অনুমোদনের থাকলেও মালিকেরা যাত্রী সংকটের অজুহাত দেখিয়ে রোটেশন প্রথা অনুসরণ করছেন। উৎসবের মৌসুম ছাড়া বাকি সময়ে লঞ্চের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ায় যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি বিআইডব্লিউটিএর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ আশা করছেন শীঘ্রই এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন