১৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানের আকাশসীমার অনুমতি জটিলতায় রূপপুরের ইউরেনিয়াম সরবরাহ বিলম্বিত

প্রকাশ:

রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নির্ধারিত ইউরেনিয়ামবাহী কার্গো বিমানটি সময়মতো বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারেনি। গত ২৪ সেপ্টেম্বর চালানটি পৌঁছানোর কথা থাকলেও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় এই বিলম্ব ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, বিমানটিকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পাকিস্তান কেন এই অনুমতি দেয়নি, তা এখনো অস্পষ্ট। রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়ামবাহী একটি কার্গো বিমান গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইউরেনিয়াম পরিবহনের জন্য ইতোমধ্যে নতুন তারিখ প্রস্তাব করা হয়েছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে আসা তথ্য অনুযায়ী, আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে চালানটি বাংলাদেশে এসে পৌঁছাতে পারে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউরেনিয়াম গ্রহণ ও খালাসের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল, তবে আকাশসীমার অনুমতি জটিলতায় প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হয়।

রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, অনুমতি না মেলায় ইউরেনিয়াম পাঠানো সম্ভব হয়নি এবং পুনরায় সময়সূচি নির্ধারণের প্রয়োজন পড়েছে। তবে ঠিক কোন দেশ বা কর্তৃপক্ষ আকাশসীমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করেছে, তা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেননি। এ বিষয়ে রোসাটমের প্রতিনিধির কাছে ই-মেইলে জানতে চাওয়া হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জানতে রোসাটমের এক প্রতিনিধিকে ই-মেইল করেছিল এএনআই।

উল্লেখ্য, পাবনার ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীর তীরে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে দুটি ভিভিইআর-১২০০ চুল্লি নির্মাণ করা হচ্ছে। উভয় ইউনিট মিলে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।

এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান বাংলাদেশে পৌঁছায়। সে সময় রাশিয়ার নোভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে উৎপাদিত ১৬৪টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি একটি কার্গো বিমানে করে সরাসরি ঢাকায় আনা হয়। কঠোর নিরাপত্তাবলয়ের মধ্য দিয়ে সেই ইউরেনিয়াম সড়কপথে ঈশ্বরদীর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানোর পর আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় আনা ওই ইউরেনিয়াম পরে বিশেষ বিকিরণ-সুরক্ষিত কনটেইনারে করে রাজধানী থেকে ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেয়া হয়।

শেয়ার করুন