১৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তজুমদ্দিনে মেঘনার তীব্র স্রোতে মাছ ধরার ট্রলার ডুবল

প্রকাশ:

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মেঘনা নদীতে প্রবল স্রোতের মুখে পড়ে মাছ ধরার একটি ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার দুপুরে মাছ ধরা শেষে ঘাটে ফেরার পথে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তলিয়ে যায়। এ সময় ট্রলারে থাকা রুহুল আমিন মাঝি, মো. শাহিন, জসিম উদ্দিন ও নাসির উদ্দিন নদীতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ বাঁচান। পরবর্তীকালে সোনার চর এলাকার অন্য একটি ট্রলারের জেলেরা তাদের উদ্ধার করেন।

ডুবে যাওয়া ট্রলারের মালিক রুহুল আমিন মাঝি জানান, শনিবার দুপুরে মাছ ধরার কাজ শেষে তারা যখন ঘাটের দিকে ফিরছিলেন, তখনই আকস্মিক এই বিপত্তি ঘটে। এ ঘটনায় তার ট্রলারটিসহ সমুদয় সরঞ্জাম হারিয়ে প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। দুর্ঘটনার পর থেকে স্থানীয় জেলেরা ট্রলারটি খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে মেঘনা নদীর তীব্র স্রোত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তলিয়ে যাওয়া ট্রলারটির অবস্থান শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এতে করে আমাদের প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।

মেঘনায় স্রোতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়াকে জেলেদের জন্য একটি বড় ঝুঁকির কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের ভাষ্যমতে, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের ট্রলারগুলো এই বৈরী পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণ রাখতে হিমশিম খায়, যার ফলে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। এ পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জেলেরা।

তজুমদ্দিন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ট্রলার মালিক ও জেলেরা সরকারি আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। এই আবেদনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। সরকারিভাবে কোনো বরাদ্দ পাওয়া গেলে তা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত ট্রলারটির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি, যা স্থানীয় জেলেদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। এতে স্থানীয় জেলে ও মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ট্রলার ডুবির খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ওই আবেদনটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করবো।

শেয়ার করুন