৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি সরকারের দেউলিয়াত্বের প্রমাণ: এবি পার্টি

প্রকাশ:

রাজধানীর বিজয়নগরে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু অভিযোগ করেছেন, সরকারের বর্তমান কর্মকাণ্ড দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ। বিশ্ববাজারে অস্থিরতা ও আমদানি ব্যয়ের বাস্তবতা থাকলেও, জনস্বার্থের তোয়াক্কা না করে মাত্র সাত মাসে তিনবার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, সরকারকে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হলে ধাপে ধাপে ভারসাম্যপূর্ণ সমন্বয় করতে হতো, কিন্তু এভাবে একবারে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনো সুস্থ অর্থনীতির লক্ষণ নয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সরকার ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে। এর ফলে ডিজেলের দাম ১১৫ থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। মজিবুর রহমান বলেন, এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল পরিবহন খাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এর প্রভাব পড়বে কৃষি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। আগস্ট মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ, যেখানে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। এই অবস্থায় জ্বালানির খরচ বাড়লে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে। বিশেষ করে সেচপাম্প, পাওয়ার টিলার ও হারভেস্টারের মতো কৃষিযন্ত্রের পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধিতে সামনে বোরো মৌসুমে কৃষক চরম সংকটে পড়বেন।

দলের ছায়া সরকারবিষয়ক সম্পাদক আব্বাস ইসলাম খান নোমান জ্বালানি খাতের অস্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানান, সরকার দাবি করেছে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। এই লোকসানের হিসাব পাবলিক করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারদর, ইনস্যুরেন্স, এক্সচেঞ্জ রেট, ট্যাক্স ও ডিস্ট্রিবিউশন কস্টের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করা জরুরি। এছাড়া বিপিসির দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অপচয় ও জ্বালানি চুরি বন্ধের ওপর তিনি জোর দেন।

সংকট মোকাবিলায় সরকার বরাবর ১১টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেছে এবি পার্টি। দলটির দাবির মধ্যে রয়েছে- কৃষি ও পরিবহনের জন্য পৃথক ডিজেল মূল্যনীতি প্রণয়ন, অযৌক্তিক পরিবহন ভাড়া রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, স্বচ্ছ ফর্মুলা-বেজড প্রাইসিং মেকানিজম চালু করা এবং প্রকৃত কৃষকদের জন্য টার্গেটেড ডিজেল সাপোর্ট প্রদান। পাশাপাশি, সীমান্তপথে জ্বালানি পাচার বন্ধে ডিজিটাল ট্র্যাকিং, বিপিসির কাজের ওপর স্বাধীন অডিট এবং সংকটকালীন ব্যবহারের জন্য স্ট্র্যাটেজিক ফুয়েল ইমার্জেন্সি ফান্ড গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে দলটি।

সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া, আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, মো. আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, আবদুল হালিম খোকন ও সেলিম খান উপস্থিত ছিলেন। তারা একযোগে সরকারকে জনবান্ধব নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু জনস্বার্থের তোয়াক্কা না করে ৭ মাসে তিনবার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সরকারের দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ফলে কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়তে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শুধু প্রতি লিটারে ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে, এভাবে দেখলে বাস্তব অর্থনীতির পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে সেই চাপ একসঙ্গে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে ধাপে ধাপে, ভারসাম্যপূর্ণভাবে মূল্য সমন্বয় করা যেত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কৃষি, সেচ, গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহনে ডিজেলের ব্যবহার বেশি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর প্রভাব পরিবহন ব্যয় থেকে পাইকারি–খুচরা বাজারে গিয়ে শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার ওপর পড়ে।

শেয়ার করুন