যুক্তরাজ্যের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান শেখ রবিউল আলমের

প্রকাশ:

লন্ডনে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী দ্য রাইট অনারেবল হেইডি আলেকজান্ডারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মন্ত্রী আন্তর্জাতিক জাহাজে কর্মরত বাংলাদেশি নাবিকদের জন্য ওকেটিবি (OKTB) এবং অন্যান্য ট্রানজিট ও নাবিক-সংক্রান্ত ভিসা দ্রুত ও সহজতর করার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করেন। শুক্রবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ, সামুদ্রিক প্রকৌশল, বন্দর উন্নয়ন ও সামুদ্রিক পরিবহন ব্যবস্থাসহ বন্দরভিত্তিক শিল্পে ব্রিটিশ বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে হংকং আন্তর্জাতিক কনভেনশন বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের ৪২টি জাহাজ পুনর্ব্যবহার ইয়ার্ডের মধ্যে ইতোমধ্যে ২৭টি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হয়েছে এবং বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে সেই মানদণ্ডে নিয়ে আসার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাসে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলাদেশ পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও টেকসই সামুদ্রিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়তে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করছে।

দেশের চলমান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জনগণের বিপুল সমর্থনে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ অবস্থান তাকে আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছে, যা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সংস্কারে প্রতিফলিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী গণতান্ত্রিক উত্তরণে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বৈঠক শেষে তিনি ব্রিটিশ পরিবহনমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। উভয় পক্ষই পরিবহন, রেলপথ, বন্দর উন্নয়ন ও বিনিয়োগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

শেয়ার করুন