ইস্তিগফার শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ক্ষমা প্রার্থনা করা। পরিভাষায়, নিজের পাপরাশি থেকে মুক্ত হওয়ার লক্ষ্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করাই হলো ইস্তিগফার। এটি এমন একটি আমল যা মহান আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন স্থানে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বান্দাদের ইস্তিগফারের পথে চলার নির্দেশনা দিয়েছেন।
পৃথিবীতে একটি সুন্দর ও উত্তম জীবন লাভের অনন্য মাধ্যম হলো ইস্তিগফার। সুরা হুদ-এর ৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ইস্তিগফার করো এবং তাঁর অভিমুখী হও। এর বিনিময়ে আল্লাহ তোমাদের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত উত্তম জীবন উপভোগ করতে দেবেন এবং যারা বেশি আমল করবে, তাদের অতিরিক্ত প্রতিদান দেবেন। তবে যারা মুখ ফিরিয়ে নেবে, তাদের জন্য মহা দিবসের শাস্তির আশঙ্কা রয়েছে।
আজাব-গজব ও মহামারি থেকে বাঁচতে ইস্তিগফার অত্যন্ত কার্যকর। সুরা আনফাল-এর ৩৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, নবীজি (সা.) তোমাদের মধ্যে উপস্থিত থাকা অবস্থায় এবং মানুষ ইস্তিগফারে রত থাকা অবস্থায় আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন না। এছাড়া সুরা নুহ-এর ১০ থেকে ১২ নম্বর আয়াতে ইস্তিগফারের তিনটি বৈষয়িক পুরস্কারের ঘোষণা রয়েছে। আল্লাহ বলেন, তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। তিনি আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে উন্নতি দেবেন এবং তোমাদের জন্য উদ্যান ও নদ-নদীর ব্যবস্থা করবেন।
পরকালে ইস্তিগফারকারীদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ। সুনানে ইবনে মাজাহর ৩৮১৮ নম্বর হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, যাদের আমলনামায় বেশি ইস্তিগফার পাওয়া যাবে, তাদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে। নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও মহানবী (সা.) প্রতিদিন অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার করতেন এবং উম্মতকেও তা করার নির্দেশনা দিতেন। সহিহ মুসলিমের ২৭০২ নম্বর হাদিসে তিনি বলেন, হে লোকেরা, তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো এবং ক্ষমা চাও; আমি প্রতিদিন ১০০ বার আল্লাহর কাছে তওবা-ইস্তিগফার করি।
ইস্তিগফার কেবল পরকালীন মুক্তির উপায় নয়, বরং এটি জাগতিক বিষণ্নতা, অর্থনৈতিক সংকট ও পারিবারিক কলহ দূর করার প্রতিষেধক। যখন একজন মানুষ নিজের ভুল স্বীকার করে আল্লাহর দরবারে হাত পাতে, তখন তার অন্তরে অনাবিল প্রশান্তি নেমে আসে। এই তথ্যগুলো জানিয়েছেন গাজীপুরের জামিয়া গাফুরিয়া মাখযানুল উলুমের মুহাদ্দিস আব্দুল্লাহ আলমামুন আশরাফী।




