শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচা এবং তার ষড়যন্ত্রের জাল থেকে নিরাপদ থাকা প্রতিটি মুমিনের কাম্য। অনেক সময় অসতর্কতায় মানুষ শয়তানের প্ররোচনায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, যা গোনাহের পাল্লা ভারী করে তোলে। এই কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্য সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.)-কে স্বয়ং শয়তান একটি বিশেষ আয়াতের কথা জানিয়েছিল, যা হলো সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত বা আয়াতুল কুরসি।
ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আয়াতুল কুরসিকে কোরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় এই আয়াতটি পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিস অনুযায়ী, সকালে এই আয়াত পড়লে সারাদিন শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকা যায় এবং সন্ধ্যায় পড়লে সকাল পর্যন্ত শয়তানের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকা সম্ভব হয়।
সহিহ বুখারি শরিফের ২৩১১ নম্বর হাদিসে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে রমজানের জাকাত বা সদকাতুল ফিতরের খেজুর দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। রাতে এক আগন্তুক এসে খেজুর চুরি করতে শুরু করলে তিনি তাকে ধরে ফেলেন। অভাবের দোহাই দিয়ে সে মুক্তি চাইলে দয়া পরবশ হয়ে আবু হুরায়রা (রা.) তাকে ছেড়ে দেন। পরদিন নবী (সা.) তাকে জানান যে, সে আবার আসবে। এভাবে তিন রাত অতিবাহিত হয় এবং প্রতিবারই সে অভাবের কথা বলে ক্ষমা চেয়ে নেয়। তৃতীয় রাতে সে আবু হুরায়রা (রা.)-কে একটি বিশেষ আমল শেখানোর প্রস্তাব দেয়। সে বলে, ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়লে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষাকর্তা নিযুক্ত থাকেন এবং সকাল পর্যন্ত কোনো শয়তান কাছে ভিড়তে পারে না। সকালে নবী (সা.) ঘটনাটি শুনে বলেন, সে মিথ্যাবাদী হলেও এবার সত্য বলেছে এবং ওই ব্যক্তি মূলত শয়তান ছিল।
আয়াতুল কুরসির অর্থ হলো: আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই। তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও জমিন যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমিত ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পেছনে যা কিছু রয়েছে, সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোনো কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর কুরসি বা সিংহাসন সমস্ত আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।

