খামার পর্যায়ে প্রতিটি ডিমের উৎপাদন খরচ ১০ টাকা হলেও বিক্রয়মূল্য মাত্র ৬ টাকা। এতে প্রতিটি ডিমে খামারিদের ৪ টাকা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিআইএ)-এর নেতারা। শনিবার রাজধানীর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি মোশারফ হোসেন চৌধুরী জানান, উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও দীর্ঘ সময় ধরে খামারিরা তার চেয়ে কম দামে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ লোকসান ও ঋণের চাপে পড়ে অনেক খামারি ব্যবসা বন্ধ করে দিচ্ছেন। হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ডিমে ৪ টাকা লোকসান হওয়ায় খামারিদের মাসে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিপিআইএর সভাপতি মোশারফ হোসেন চৌধুরী বলেন, মাছ, মুরগির বাচ্চা, ওষুধ, টিকা, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পরিবহনসহ প্রায় সব ধরনের উৎপাদন উপকরণের দাম বাড়লেও খামার পর্যায়ে ডিমের দাম সেই অনুপাতে সমন্বয় করা হয়নি। এই সংকটময় পরিস্থিতির কারণে গত ৫ বছরে প্রায় ৬৪ হাজার খামারি এই খাত থেকে ঝরে পড়েছেন। এছাড়া এই খাতে করপোরেট কর ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, যা প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংগঠনটির মহাসচিব মো. সাফির রহমান বলেন, খামারিদের মোট ব্যয়ের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই চলে যায় খাদ্য কিনতে। এই খাদ্যের উপকরণ আমদানিতে ৪ শতাংশ অগ্রিম আয়কর দিতে হয়, যা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। প্রতিবেশী দেশগুলোতে কাঁচামালে এমন কোনো কর নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিপিআইএর পক্ষ থেকে ধান ও আখের মতো ডিমের ক্ষেত্রেও ন্যায্যমূল্য বা ‘ফেয়ার প্রাইস’ ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সব পোলট্রি খামারিদের নিয়ে একটি ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রকৃত খামারির সংখ্যা, উৎপাদন, চাহিদা ও বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে বাস্তব তথ্য পাওয়া যাবে। এ ছাড়া প্রত্যেক নিবন্ধিত খামারির জন্য ফার্মার আইডি চালু, উপজেলা পর্যায়ে কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, সমবায়ভিত্তিক বিপণনব্যবস্থা, স্বল্পসুদে ঋণ এবং বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমাতে কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে বিপিআইএর যুগ্ম মহাসচিব অঞ্জন মজুমদারসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন। এর আগে খামারিদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়।





