দৌলতপুরে পদ্মার পানি বৃদ্ধি, পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ

প্রকাশ:

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পদ্মা নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে উপজেলার দুটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্যার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে স্থানীয়ভাবে চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা পর্যন্ত হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ০২ মিটার, যা বিপৎসীমার (১৩ দশমিক ৮০ মিটার) মাত্র ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে, উপজেলার ভাগজত পয়েন্টেও পানি দ্রুত বাড়ছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় সেখানে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৯০ মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ১৫ দশমিক ৫২ মিটার। পাউবো জানিয়েছে, ভাগজত পয়েন্টে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ১৭ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে। পানি বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকায় নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্যার পানি ফিলিপনগর, মরিচা, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর এলাকার ফসলি জমিতে প্রবেশ করায় রোপা আমন ধান, মরিচ, কলাসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া বসতবাড়ির কাছাকাছি পানি চলে আসায় গবাদিপশুর নিরাপত্তা, গো-খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হঠাৎ পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ায় ইউনিয়নের সবকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রেখে উপজেলা প্রশাসনকে নিয়মিত অবহিত করা হচ্ছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহম্মেদ জানান, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে স্কুল বন্ধের ঘোষণা না দেওয়া হলেও বন্যাকবলিত এলাকার ১৮টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আপাতত ক্লাসে আসতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। তবে বিদ্যালয় ভবনগুলো খোলা থাকবে, যাতে গৃহহীন মানুষ সেখানে নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন জানিয়েছেন, নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হবে।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ জানান, প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং বন্যাকবলিত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পানিবন্দি মানুষের সহযোগিতা ও নিরাপত্তার স্বার্থে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে চিলমারী ইউনিয়নের অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে সীমিত পরিসরে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন