মাদারীপুরের শিবচরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেল রেস করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাকিবুল হাসান (১৯) নামের এক তরুণ চালক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের শিবচর হাইওয়ে থানা সংলগ্ন বাচামারা এলাকায় ঢাকাগামী লেনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাকিবুল মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া মৌহালী এলাকার তরিকুল ইসলামের ছেলে।
জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মানিকগঞ্জ থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ১১টি মোটরসাইকেল নিয়ে তারা যাত্রা শুরু করেন। ফরিদপুর হয়ে ভাঙ্গা চৌরাস্তা এলাকায় পৌঁছানোর পর তাদের সঙ্গে আরও নয়জন মোটরসাইকেল চালক যুক্ত হন। তাদের পরিকল্পনা ছিল ভাঙ্গা থেকে পদ্মা সেতু পর্যন্ত বাইক রেস করার। শিবচরের আড়িয়াল খাঁ সেতু পার হওয়ার সময় দ্রুতগতিতে থাকা সাকিবুলের মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক্সপ্রেসওয়ের রেলিংয়ে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে বাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই সাকিবুলের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর তার সঙ্গে থাকা বন্ধুরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
নিহতের বান্ধবী আরোহী আক্তার জানান, তারা মানিকগঞ্জ থেকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট হয়ে ফরিদপুর আসেন। সেখান থেকে আরও নয়জন তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। তিনি বলেন, ভাঙ্গা পৌঁছানোর পর তাকে ও অন্য এক বান্ধবীকে রেখে অন্যরা বাইক নিয়ে রেসিংয়ে বেরিয়ে যায়। পরে খবর পান সাকিব দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। ঘটনাস্থলে এসে তিনি সাকিবকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। আরোহী আরও বলেন, সাকিবসহ তার বন্ধুরা প্রায়ই বাইক রেস করত এবং ফেসবুকে অন্যদের সাথে তাদের পরিচয় হতো। দুর্ভাগ্যবশত রেসিং চলাকালীন এই দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয় এবং বন্ধুরা তাকে ফেলে রেখে চলে যায়।
শিবচর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন জানান, দুপুরের পর দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের উপস্থিতিতে সেখানে নিহতের পরিচিত কাউকে পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, বন্ধুরা দ্রুতগতিতে বাইক চালানোর সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে এবং পরিস্থিতি দেখে তারা পালিয়ে যায়। বর্তমানে নিহতের মরদেহ হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে এবং তার পরিবারের সদস্যরা এলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





