জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) প্রদর্শিত একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভার আগে এই ভিডিওটি প্রদর্শন করা হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, ডকুমেন্টারিটিতে জুলাই আন্দোলনে সরাসরি যুক্ত থাকা অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অবদানকে উপেক্ষা করা হয়েছে এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের কার্যক্রমকে তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ডকুমেন্টারিটি একপাক্ষিক হয়েছে। এতে সাদা দলের সভাপতি ও প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের ছবি ও বক্তব্য স্থান পেলেও, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সদস্যসচিব ও ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমান, ফলিত গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল করিম এবং জামাল উদ্দিনসহ আন্দোলনে সক্রিয় অনেক শিক্ষকের কোনো তথ্য বা বক্তব্য রাখা হয়নি।
শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুলের বক্তব্য দেখানো হলেও, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান আরিফ, সদস্যসচিব বনী ইয়ামিন, ছাত্রশিবির শাখার সভাপতি আরিফুল ইসলাম সৈকত, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, বায়তুলমাল সম্পাদক মেহেদী হাসান, সাবেক নেতা জানে আলম এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির জেলা সদস্যসচিব মেহেদী হাসান সীমন্তের বক্তব্য ডকুমেন্টারিতে ছিল না। এছাড়া বিজিই বিভাগের সালাউদ্দিন মহসিন, ফলিত গণিত বিভাগের জাহিদ হাসান এবং এসিসিই বিভাগের মেহেদী হাসানের মতো সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কোনো প্রতিফলন সেখানে দেখা যায়নি।
ডকুমেন্টারি তৈরির জন্য গঠিত উপ-কমিটির গঠন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে প্রথমে অধ্যাপক ড. মো: জাহাঙ্গীর সরকারকে রাখা হলেও, তিনি সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি হওয়ার পর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো: হাসান উদ্দিন দায়িত্ব পান। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন আইসিটি সেলের ফয়েজ আহমেদ, ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো: মহিউদ্দিন আল ফয়সল, কম্পিউটার অপারেটর আব্দুর রহিম, বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম ডি মাসুদ রহমান এবং ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
ফলিত গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল করিম আলোচনা সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সকল মতের ঊর্ধ্বে উঠে ডকুমেন্টারি তৈরি করতে না পারা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য লজ্জার। এসিসিই বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, এটি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অবদান হিসেবে জুলাই আন্দোলনকে তুলে ধরার চেষ্টা ছিল।
কমিটির আহ্বায়ক ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো: হাসান উদ্দিন জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর সব বিষয় সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং ভিডিওর ছোটখাটো ভুল সংশোধনের জন্য উপাচার্যকে জানিয়েছিলেন। উপাচার্য ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছেন এবং ভবিষ্যতে এসব অসঙ্গতি দূর করার বিষয়টি দেখবেন। তবে সংশ্লিষ্টদের বড় প্রশ্ন হলো, ঐতিহাসিক এই ঘটনার ডকুমেন্টারি তৈরির সময় রাজনৈতিক ভারসাম্য এবং আন্দোলনের বাস্তব ভূমিকার বিষয়টি কেন আগে যাচাই করা হলো না।
নোবিপ্রবি প্রতিনিধিজুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) প্রদর্শিত একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ডকুমেন্টারিতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের কার্যক্রমকে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে জুলাই আন্দোলনে সরাসরি





