মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আদালতের দেওয়া সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ও ঢাকার বিভিন্ন আদালত থেকে হাসিনাসহ তার পরিবারের সদস্যদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেওয়া হলেও বেশিরভাগই এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কেউ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আদালতের রায় বাস্তবায়নের দায়িত্ব মূলত নির্বাহী বিভাগের। তবে আইনজীবী ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, এই ঢিলেমি ন্যায়বিচারের পথে বড় অন্তরায়। অনুসন্ধান বলছে, গাজীপুরের ‘টিউলিপ টেরিটরি’ এখনো শেখ পরিবারের লোকজনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ধানমন্ডির সুধা সদন বাড়িটি ক্রোকের নির্দেশ থাকলেও এটি বর্তমানে পরিত্যক্ত এবং মাদকসেবীদের আড্ডায় পরিণত হয়েছে। তবে সরকার হাসিনার ব্যাংকের লকারে থাকা ৮৩২ ভরি স্বর্ণালংকার জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে।
২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালত হাসিনার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা বিভিন্ন বাড়ি ও জমি ক্রোকের আদেশ দেয়। এর মধ্যে রয়েছে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বারিধারার প্রায় পাঁচ কোটি টাকার বাড়ি, পুতুল ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের খুলনার দিঘলিয়ার ৮৭.৭০ শতাংশ জমি, শেখ রেহানা ও তার সন্তানদের গোপালগঞ্জ ও খুলনার জমি এবং টিউলিপ সিদ্দিকের গুলশানের ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন সম্পদ। এছাড়া টিউলিপের নামে গুলশানের ৭১ নম্বর রোডের ১১ নম্বর ভবনের ২,৪৩৬ বর্গফুট আয়তনের বি/২০১ নম্বর ফ্ল্যাটটি ক্রোকের আদেশ দেয় আদালত। রেহানার নামে থাকা রাজধানীর সেগুনবাগিচার ৭৯ নম্বর হোল্ডিংয়ের ২০৬ নম্বর ফ্ল্যাট, গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুরে ৮.৫ শতাংশ জমি, ববির নামে থাকা নিকেতনের সাততলা বাড়ির চারতলায় কার পার্কিংসহ ১,৯২০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট এবং একই আয়তনের তৃতীয় তলার আরেকটি ফ্ল্যাটও ক্রোকের আদেশ দেয় আদালত। একই এলাকার অন্য একটি ভবনের কার পার্কিংসহ দ্বিতীয়, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় ১,৮০০ বর্গফুট করে চারটি ফ্ল্যাট ক্রোকের আদেশ দেয় আদালত। তবে এসব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ এখনো কার্যকর হয়নি বলে জানান দুদকের এক কর্মকর্তা।
এদিকে, গত বছরের ১১ মে ঢাকার আদালত আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা, জয়, পুতুল ও রেহানাসহ তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১২৪টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দেয়। এছাড়া শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট, সিআরআই, সূচনা ফাউন্ডেশনসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়। দুদক কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, হাসিনা ও তার পরিবারের ৩১টি ব্যাংক হিসাবে থাকা ৩৯৪ কোটি ৬০ লাখ ৭২ হাজার টাকা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া সূচনা ফাউন্ডেশনের ১৪টি ব্যাংক হিসাবে গচ্ছিত ৪৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকাও অবরুদ্ধ করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়া চলছে।





