নেপালের ভয়াবহ বন্যায় ভারত ও বিহারে বন্যার উচ্চ সতর্কতা

প্রকাশ:

প্রকৃতিকে কোনো মানবসৃষ্ট সীমারেখা দিয়ে বেঁধে রাখা সম্ভব নয়, যার প্রমাণ মিলেছে নেপালে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায়। হিমবাহ ধসের কারণে সৃষ্ট এই বন্যার প্রভাবে এবার ভারতের উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর মূল কারণ গণ্ডক নদী, যা নেপালে ‘নারায়ণী’ নামে পরিচিত। তিব্বত-নেপাল সীমান্তের কাছে উৎপত্তি হয়ে নেপালের মুস্তাং অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর এই নদী ভারত-নেপাল সীমান্তের ত্রিবেণী ধাম অতিক্রম করে বিহারের বাল্মীকিনগরে প্রবেশ করেছে। লিভিং ওয়াটার্স মিউজিয়ামের তথ্যমতে, বাল্মীকিনগর থেকে গণ্ডক নদী উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের বুক চিরে হাজীপুর ও সোনপুরের কাছে গঙ্গায় মিশেছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) জানিয়েছে, একটি হিমবাহ হ্রদের পানি হঠাৎ বেরিয়ে যাওয়ায় তুষারধসের সৃষ্টি হয় এবং সেখান থেকেই ভয়াবহ এই বন্যার সূত্রপাত। নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোতে কোশি নদী দিয়ে বিপুল পরিমাণ পানি নেমে আসার ফলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। ভোতে কোশি নদী ত্রিশূলী নদী ব্যবস্থার একটি প্রধান উজানের উপনদী, যা পরে গণ্ডক অববাহিকায় মিশেছে। ফলে নেপালের নারায়ণী নদীতে পানির উচ্চতা বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি ভাটিতে অবস্থিত ভারতের গণ্ডক নদীতে পড়ে। একই সঙ্গে নেপাল থেকে আসা ঘাঘরা বা কর্ণালি, শারদা বা কালি এবং রাপ্তি নদীও সীমান্ত পেরিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে বন্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিহারের পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, সারান, মুজাফফরপুর ও বৈশালীসহ বেশ কিছু জেলায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সীতামঢ়ী ও শেওহর জেলাকেও নজরদারির আওতাভুক্ত করা হয়েছে। বুধবার বাল্মীকিনগরের গণ্ডক ব্যারাজের ৩৬টি গেটই খুলে দেওয়া হয়েছে যাতে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী ও পানিসম্পদ মন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যারাজে একজন সুপারিনটেনডিং ইঞ্জিনিয়ারের নেতৃত্বে একটি কারিগরি দল মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার দুপুরের দিকে ব্যারাজ থেকে প্রায় ৮৬ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য ব্যারাজের ওপর চাপ কমানো।

উত্তরপ্রদেশের মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগর জেলাকেও বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ স্থানীয় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কুশীনগরের মার্চাহওয়া ও শিবপুরসহ ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামগুলো থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয়দের সতর্ক করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন