জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সংবিধান সংস্কারের নামে প্রহসন না করে দ্রুত গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা না হয়, তবে ওলামা অ্যালায়েন্সসহ জুলাই বিপ্লবের সব অংশীজন ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বৃহত্তর রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। যদিও আন্দোলন ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে, তবুও নাহিদ ইসলাম মনে করেন, সরকার চাইলে এখনো সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের সুযোগ রয়েছে।
সোমবার রাজধানীর বিএমএ অডিটরিয়ামে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স আয়োজিত ‘রক্তাক্ত জুব্বা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইসলামী ও রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনা বিক্রি করে কেউ রাজনীতি করছে না; বরং রাষ্ট্র সংস্কার, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি জানানো হচ্ছে। সরকার যদি এটিকে ‘জুলাই চেতনা বিক্রি’ বলে অভিহিত করে, তবে তা তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক ব্যাখ্যা মাত্র।
বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় সুফল বর্তমান সরকার পেয়েছে এবং এই বিপ্লবের কারণেই তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। অথচ এখন জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তারা ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি জুলাই বিপ্লবের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আন্দোলনের অংশীজনদের অবদান মূল্যায়নের উদ্যোগের কথা জানান। নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০১৩ সালের আন্দোলন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্রসমাজের যে বৃহত্তর ঐক্য তৈরি হয়েছিল, তা জুলাই বিপ্লবে নতুন গতি এনেছিল। বিশেষ করে ১৮ থেকে ২০ জুলাই যখন সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল, তখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাই রাজপথে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
ওলামায়ে কেরাম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ওলামাদের ভূমিকা ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইসলাম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ‘জঙ্গিবাদ’ তকমা দিয়ে দমন করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘রক্তাক্ত জুব্বা’ কেবল জুলাই বিপ্লবের নয়, বরং কয়েক দশক ধরে বিশ্বজুড়ে ইসলাম ও মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের প্রতীক। তিনি জুলাই, শাপলা ও মোদিবিরোধী আন্দোলনে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মাননা দেওয়ার আহ্বান জানান।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার একদিকে রাষ্ট্রপতির আদেশকে অবৈধ ও সংবিধানবিরোধী বলছে, অন্যদিকে সেই রাষ্ট্রপতিকেই বহাল রেখেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচন বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী হয়নি এবং ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বাস্তবতাকে কেবল সংবিধানের ভাষায় ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়; বরং জনগণের রায় ও আকাঙ্ক্ষার আলোকে তা মূল্যায়ন করতে হবে।





