মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের জন্য একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। সোমবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় খুলনার হোটেল সিটি ইনে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ আয়োজিত অংশীজন সম্মেলন-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ পরিকল্পনার কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, বন্দরকে ঘিরে শিল্প, সেবা, আমদানি-রপ্তানি ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি প্রতিষ্ঠান আগামী ১৮ মাসের মধ্যে প্রথম ধাপের কাজ শুরু করতে আগ্রহী। এই ধাপে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং তিন বছরের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের কাজ শেষ হলে আরও প্রায় ৬০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এই উদ্যোগের আওতায় মোংলায় দুটি বা তিনটি জেটি স্থাপন এবং কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বন্দরের নাব্যতা নিশ্চিত করার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জাহাজ চলাচলের জন্য নিরবচ্ছিন্ন নাব্যতা বজায় রাখা জরুরি। ১০ মিটার ড্রাফট নিশ্চিত করা গেলে বড় জাহাজ মোংলা বন্দরে আসতে পারবে। এজন্য ক্যাপিটাল ড্রেজিং, রক্ষণাবেক্ষণ ও স্পট ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ড্রেজিং কার্যক্রমে অনিয়ম ও স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বরাদ্দ অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত ড্রাফট না পাওয়া এবং কাজ না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া নৌপথে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত জাহাজ বা রেক দ্রুত অপসারণের আশ্বাসও দেন তিনি।
জ্বালানি সংকট নিরসনে মোংলায় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে বলে মন্ত্রী জানান। তিনি জানান, মোংলার আকরাম পয়েন্টে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে সম্ভাবনা দেখা গেছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা যাচাই ও হাইড্রোমরফোলজি সমীক্ষা করা হবে।
খুলনা-মোংলা যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের পরবর্তী পর্যায়ের প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের বিশাল বিনিয়োগ ও রাজস্ব সক্ষমতা বিবেচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। অনুষ্ঠানে খুলনা-২ আসনের এমপি জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা, জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত, খুলনা রেল ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান, কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, দক্ষিণাঞ্চল অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এবং উপযুক্ত নেতৃত্ব ও সমন্বিত উদ্যোগের অভাবে এ অঞ্চল এতদিন পিছিয়ে ছিল। এখন আর পিছিয়ে থাকার সময় নেই। মোংলা বন্দরের উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে এবং এর মাধ্যমে মোংলা শুধু দেশের একটি বন্দর নয়, দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হবে।





