শ্রমিকদের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: মাহদী আমিন

প্রকাশ:

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম। শ্রমজীবী মানুষকে জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করে তাদের টেকসই নিরাপত্তা, মর্যাদা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন। শনিবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) সম্মেলন ও সাধারণ সভায় তিনি এ কথা বলেন। ‘মর্যাদা, অধিকার, ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতে এগিয়ে যাবার প্রত্যয়’ শীর্ষক এই সভায় বক্তৃতাকালে তিনি শ্রমিকের কল্যাণকে একটি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে তুলনা করেন।

মাহদী আমিন বলেন, শ্রমিকরা কেবল শ্রম দেন না, বরং তারাই অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন। শ্রমের মর্যাদা নিশ্চিত করা মানেই দেশের মর্যাদা নিশ্চিত করা। তিনি ন্যায্য মজুরিকে কোনো অনুগ্রহ নয় বরং শ্রমিকের ন্যায্য প্রাপ্য হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে নিরাপদ কর্মপরিবেশকে প্রতিটি শ্রমিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন। তিনি আরও বলেন, দক্ষ শ্রমিক দেশের অন্যতম বড় উৎপাদনশীল সম্পদ। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শ্রমিকের দক্ষতা বাড়লে শিল্পের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার শক্তি বৃদ্ধি পায়। নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থানের জন্য আগামী প্রজন্মের শ্রমশক্তিকে প্রস্তুত করার পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় বিনিয়োগের ওপর তিনি জোর দেন।

শিল্পখাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সুসম্পর্ক এবং অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, মালিক ও শ্রমিকের সম্পর্ক কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। এটি হতে হবে আস্থা, পারস্পরিক নির্ভরতা ও গভীর ভালোবাসার। তিনি সরকারের ‘ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ ব্যবস্থা’র (ট্রাইপারটাইট কনসালটেশন) মাধ্যমে শিল্প খাতকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় শ্রমজীবী মানুষের ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করে মাহদী আমিন বলেন, তারা নিজেদের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের কল্যাণ ও ন্যায়ের পক্ষে সাহসী অবস্থান নিয়েছেন। তিনি নারী শ্রমিকের নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং জানান যে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্প এখন শ্রমজীবী নারীদের মাঝেও পৌঁছানো শুরু হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিলসের তিন দশকের পথচলা ও শ্রম অধিকার রক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির অবদানের প্রশংসা করেন উপদেষ্টা। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষি বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিলসের মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন, জাপান ইন্টারন্যাশনাল লেবার ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ইয়াসুনোবু আইহারা, বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর জ্যানা ভ্যান ডার লিনডেন, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ জকরিয়া, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার এবং বিলসের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান ভূঁইয়া।

শেয়ার করুন